শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

কবিতা: চৈত্রের দাহন  লেখনীতে:আইরিশা হানীন। শব্দসাঁকো।

কবিতা: চৈত্রের দাহন লেখনীতে:আইরিশা হানীন। শব্দসাঁকো।

 কবিতা: চৈত্রের দাহন


লেখনীতে:আইরিশা হানীন 


চৈত্রের রোদ  যেন আগুন হয়ে নামে,

আকাশ জুড়ে জ্বলছে যেন নীরব দাহন ।

হাওয়া নেই, শুধু তপ্ত নিঃশ্বাস,

প্রকৃতি আজ ক্লান্ত, অবসন্ন।

ঘাম ঝরে পড়ে বিন্দু বিন্দু,

মুখে শুকিয়ে যায় কথার স্রোত।

রাস্তাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে,

ছায়ারাও যেন খোঁজে আশ্রয় একটু।

সূর্যটা যেন আজ বেজায় রাগী ,

কৃপা নেই তার, নেই কোনো দয়া।

মাটির বুকে আগুনের চাদর,

জীবন যেন থমকে দাঁড়ায়।

তবু এই দহন পেরিয়ে একদিন,

নামবে বৃষ্টি, ভিজবে ধরণী।

এই গরমের ক্লান্তি ভুলিয়ে,

নতুন করে হাসবে এই ধরনী।


(সমাপ্ত)

কবিতাঃ বসন্তদূত  লেখনীতেঃ সায়ন্তনী সুপ্তি।  শব্দসাঁকো।

কবিতাঃ বসন্তদূত লেখনীতেঃ সায়ন্তনী সুপ্তি। শব্দসাঁকো।

 কবিতাঃ বসন্তদূত

লেখনীতেঃ সায়ন্তনী সুপ্তি 



শীততাপে পোড়া রুক্ষ প্রকৃতির দ্বারে 

আজ বসন্তদূতের আগমন,

দক্ষিণ বাতাসের দোলায় আন্দোলিত,

শাখীময় সুশোভিত পুষ্পমঞ্জুরী,

             সাথে,

কপোত-কপোতীদের হৃদয়ে 

ভালোবাসার প্রাণোচ্ছাস।


নব-ফাল্গুন সর্বত্র বিরাজিত

তবু আমার হৃদয় দ্বার-গোড়ায়, 

চিত্তলগ্ন ফাল্গুনের অনুপস্থিতি।

কোনো এক নির্জনতায় সে'ও হয়তো 

আমার জন্য অপেক্ষারত। 


বহু যুগের প্রতিক্ষায় এমনি এক ফাল্গুনে

       দুজনের সাক্ষাৎ হবে, 

হৃদয় অঙ্গিনায় সেদিন আমার'ও চিরবসন্ত ধরা দেবে, 

আর সে হবে আমার, "বসন্তদূত"।

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম: ২০২৬ সালে জনপ্রিয় ও কার্যকরী ৫টি উপায়। শব্দসাঁকো।

ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম: ২০২৬ সালে জনপ্রিয় ও কার্যকরী ৫টি উপায়। শব্দসাঁকো।

 


ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম: ২০২৬ সালে জনপ্রিয় ও কার্যকরী ৫টি উপায়

​বর্তমান যুগে ফেসবুক কেবল বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি আয়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্য থাকলে যে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করে সম্মানজনক আয় করতে পারেন। আজকের আর্টিকেলে আমরা ফেসবুক থেকে আয়ের শীর্ষ ৫টি উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

​১. ইন-স্ট্রিম অ্যাডস (In-Stream Ads)

​ফেসবুক থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো। ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও আপনার আপলোড করা ভিডিওর মাঝে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়, যার বিনিময়ে আপনি টাকা পাবেন।

  • শর্ত: এর জন্য আপনার ফেসবুক পেজে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলোয়ার এবং গত ৬০ দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ 'ওয়াচ টাইম' থাকতে হয়। আপনার ভিডিও যত বেশি মানুষ দেখবে, আপনার আয় তত বাড়বে।

​২. ফেসবুক রিলস (Facebook Reels)

​বর্তমানে ফেসবুক 'রিলস' বা ছোট ভিডিওর ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। টিকটক বা ইউটিউব শর্টসের মতো এখানেও ছোট ভিডিও বানিয়ে 'রিলস প্লে বোনাস' বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। সৃজনশীল এবং ভাইরাল হওয়ার মতো ভিডিও বানাতে পারলে খুব দ্রুত এখান থেকে আয় শুরু করা যায়।

​৩. কন্টেন্ট মনিটাইজেশন ও স্টারস (Stars)

​ফেসবুকে আপনার ভক্ত বা অনুসারীরা যদি আপনার কন্টেন্ট পছন্দ করে, তবে তারা আপনাকে ডিজিটাল 'স্টার' পাঠাতে পারে। প্রতিটি স্টারের বিপরীতে ফেসবুক আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। সাধারণত লাইভ স্ট্রিমিং বা শিক্ষামূলক ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি খুব কার্যকর।

​৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

​আপনার যদি একটি বড় পেজ বা গ্রুপ থাকে, তবে আপনি বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের (যেমন: অ্যামাজন, দারাজ বা লোকাল ব্র্যান্ড) পণ্যের লিংক শেয়ার করতে পারেন। কেউ যদি আপনার দেওয়া লিংক থেকে পণ্য কেনে, তবে আপনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন। এটি বর্তমানে বিনিয়োগ ছাড়া আয়ের অন্যতম সেরা উপায়।

​৫. নিজের ব্যবসা বা অনলাইন শপ (Facebook Shop)

​আপনার যদি নিজস্ব কোনো পণ্য (যেমন: পোশাক, হস্তশিল্প বা খাবার) থাকে, তবে ফেসবুক পেজকে ব্যবহার করে আপনি সরাসরি গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করতে পারেন। ফেসবুক শপ ফিচার ব্যবহার করে পণ্য প্রদর্শন এবং বুস্টিংয়ের মাধ্যমে টার্গেটেড কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক সহজ।

​সফল হওয়ার কিছু টিপস:

  • নিয়মিত কন্টেন্ট দিন: সপ্তাহে অন্তত ৩-৪টি মানসম্মত ভিডিও বা পোস্ট করুন।
  • কপিরাইট এড়িয়ে চলুন: অন্যের ভিডিও বা মিউজিক ব্যবহার করবেন না। সবসময় নিজের তৈরি কন্টেন্ট আপলোড করুন।
  • অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট: ফলোয়ারদের কমেন্টের উত্তর দিন এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।
হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: আলোচনায় 'হাসিনা ব্যবস্থা'। শব্দসাঁকো।

হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: আলোচনায় 'হাসিনা ব্যবস্থা'। শব্দসাঁকো।

 


হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: আলোচনায় 'হাসিনা ব্যবস্থা'

স্টাফ রিপোর্টার: সেলিম রেজা| ঢাকা

​জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক মহলে এটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত ও ভাইরাল বিষয়।

​পোস্টে কী ছিল?

​সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটে 'হাসিনা ব্যবস্থা'র সবকিছুই প্রয়োজন, কেবল শেখ হাসিনা ছাড়া।" তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিতর্কিত মন্তব্যটি প্রকাশের পরপরই তা নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং পূর্ববর্তী সরকারের শাসন পদ্ধতির প্রতি এক ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

​রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

​হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্য নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকে একে বর্তমান সরকারের অধীনে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে এনসিপি (NCP)-র পক্ষ থেকে দক্ষিণবঙ্গে সংগঠনকে শক্তিশালী করার এই সময়ে এমন মন্তব্য বেশ গুরুত্ব বহন করছে।

​এনসিপি (NCP) ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

​জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সচেষ্ট। হাসনাত আবদুল্লাহর মতো তরুণ ও প্রভাবশালী নেতার এমন অবস্থান দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করছেন যে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন, তবে তার ধরন কেমন হবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

অনুগল্প: নীরব পুরুষ আমি  লেখক: হাফেজ মোহাম্মদ সোহেল হাসান।  শব্দসাঁকো।

অনুগল্প: নীরব পুরুষ আমি লেখক: হাফেজ মোহাম্মদ সোহেল হাসান। শব্দসাঁকো।


 অনুগল্প: নীরব পুরুষ আমি

লেখক: হাফেজ মোহাম্মদ সোহেল হাসান 


আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। বড় কোনো পরিচয় নেই, বড় কোনো স্বপ্নও না। শুধু ছোট্ট একটা ইচ্ছে ছিল—নিজের একটা সংসার গড়ব, যেখানে আমার মানুষগুলো ভালো থাকবে, শান্তিতে থাকবে।

হয়তো সেই ইচ্ছেটাই আমাকে প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখে।


আমার দিনটা শুরু হয় ভোরে। যখন চারপাশে এখনো নীরবতা, তখন আমি চুপচাপ উঠে পড়ি। আয়নায় নিজের দিকে তাকালে মাঝে মাঝে মনে হয়—এই মানুষটাকে আমি চিনিই না। চোখের নিচে ক্লান্তি, মুখে চাপা দুশ্চিন্তা, তবুও নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করি।

কারণ আমি জানি, আমি দুর্বল হলে আমার পরিবার ভেঙে পড়বে।


বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমি প্রতিদিন একটা কাজ করি—চুপচাপ আমার সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেই, আর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকি কিছুক্ষণ। ওরা তখন ঘুমিয়ে থাকে, জানেও না আমি কীভাবে তাদের জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে বের হই।

কিন্তু আমি কিছু বলি না। কারণ আমি শিখেছি, পুরুষদের ভালোবাসা মুখে বলতে হয় না—কাজেই প্রমাণ করতে হয়।


সারাদিন আমি বাইরে থাকি। কাজের চাপ, মানুষের কথা, জীবনের হিসাব—সবকিছু একসাথে মাথার ওপর এসে পড়ে। অনেক সময় খুব ক্লান্ত লাগে, মনে হয় একটু বসি, একটু বিশ্রাম নেই।

কিন্তু তখনই মনে পড়ে—আমার থামার সুযোগ নেই।

আমার থেমে যাওয়াটা মানে আমার পরিবারের কষ্ট শুরু হওয়া।


আমি নিজের ইচ্ছাগুলো ধীরে ধীরে মেরে ফেলেছি।

কোনো কিছু ভালো লাগলে কিনতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু ভাবি এই টাকা দিয়ে বাসার বাজার হবে, সন্তানের পড়াশোনার খরচ চলবে।

নিজের শখ, নিজের স্বপ্ন—সবকিছু এক পাশে সরিয়ে রেখে আমি শুধু একটা কথাই ভাবি,আমার পরিবার যেন ভালো থাকে।


বাড়ি ফিরি রাতে। শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে। কিন্তু বাসার দরজা খুলে যখন ভেতরে ঢুকি, তখন মুখে একটা হাসি রাখি।

কারণ আমি চাই না, আমার ক্লান্তি দেখে কেউ চিন্তা করুক।


আমার স্ত্রী কখনো কখনো বলে, তুমি তো আমাদের সময় দাও না। সারাদিন বাইরে থাকো।


কথাটা শুনে আমি চুপ হয়ে যাই।

ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে—

বলতে ইচ্ছে করে, এই বাইরে থাকাটাই তো তোমাদের জন্য।

কিন্তু আমি কিছুই বলি না।

কারণ আমি জানি, আমার ব্যাখ্যা হয়তো তার কাছে অজুহাত মনে হবে।


আমি বুঝি, আমি হয়তো ঠিকভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি না।

আমি “ভালোবাসি” কথাটা সহজে বলতে পারি না।

আমি শুধু চেষ্টা করি, যেন কোনো অভাব না থাকে।


কিন্তু মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়।

যখন দেখি, আমার এত চেষ্টা, এত ত্যাগ–কেউ যেন বুঝতেই চায় না।

আমি চুপচাপ থাকি বলে, সবাই ভাবে আমার কোনো অনুভূতি নেই।


একদিন রাতে আমার ছেলে আমাকে জিজ্ঞেস করল,

আব্বু, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?


আমি একটু হেসে বললাম,তোমার জন্যই তো সব করি।


সে হয়তো বুঝতে পারেনি আমার কথার গভীরতা।

কিন্তু আমি জানি, আমার প্রতিটা ঘাম, প্রতিটা কষ্ট—সবই ওর জন্য।


আমি কখনো কাউকে দোষ দেই না।

হয়তো আমারই ভুল,আমি আমার কষ্টগুলো কাউকে বুঝাতে পারি না।

আমি শুধু চুপচাপ দায়িত্ব পালন করে যাই।


রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন আমি একা বসে থাকি।

ভাবি,আমি কি সত্যিই অবহেলিত?

নাকি এটাই একজন পুরুষের জীবন?


হয়তো পুরুষ হওয়া মানেই,নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখা।

হয়তো পুরুষ হওয়া মানেই,চুপচাপ সব সহ্য করা।

হয়তো পুরুষ হওয়া মানেই,নিজে কষ্ট পেয়ে অন্যদের হাসি দেখানো।


আমি জানি না, আমার এই গল্প কেউ বুঝবে কিনা।

কিন্তু আমি এটুকু জানি,আমি খারাপ কিছু চাইনি।

আমি শুধু চেয়েছিলাম, আমার পরিবার ভালো থাকুক।


আজও আমি ভোরে উঠব, আবার কাজে যাব, আবার একইভাবে লড়াই করব।

কারণ আমি থামতে পারি না।

আমি হার মানতে পারি না।


আমি একজন পুরুষ,

আমার ভালোবাসা শব্দে না, দায়িত্বে লেখা।

আমার কষ্ট চোখে না, নীরবতায় লুকানো।

আর আমার গল্প—হয়তো কখনো পুরোটা কেউ বুঝবে না…।


~~~সমাপ্ত~~~

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ যুদ্ধ আপডেট।  শব্দসাঁকো।

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ যুদ্ধ আপডেট। শব্দসাঁকো।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আপডেট (২ এপ্রিল, ২০২৬)

​বর্তমানে এই সংঘাত ৩৪তম দিনে পদার্পণ করেছে। পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটময় মোড়ে অবস্থান করছে।

​১. ইসরায়েলে ইরানের ব্যাপক মিসাইল হামলা

​আজ সকালে ইরান থেকে ছোড়া ১০টি মিসাইল ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলো লক্ষ্য করে আরও ৩৫টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।

​২. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলটিমেটাম

​মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো প্রায় অর্জিত। তিনি পরবর্তী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি যুদ্ধবিরতিতে না আসে, তবে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

​৩. হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক সংকট

​ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ব্লক করে রেখেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি করেছে। চীন এই সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের "অবৈধ সামরিক অভিযানকে" দায়ী করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনসহ ৩৫টি দেশ এই নৌপথটি পুনরায় সচল করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।

​৪. ইরানের অনড় অবস্থান

​ইরানি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাগারি জানিয়েছেন, তাদের প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভস্থ এবং সুরক্ষিত, যা মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা আপাতত কোনো সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি নয়।

​৫. আরব অঞ্চলের প্রভাব

​সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) জানিয়েছে, তারা আজ বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ও মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত আরব দেশগুলোতেও বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সাদ্দাম সমাদ্দারের বউয়ের বিয়ে।  শব্দসাঁকো।

সাদ্দাম সমাদ্দারের বউয়ের বিয়ে। শব্দসাঁকো।

 

বউয়ের বিয়ে


বউয়ের বিয়ে

​আরিফ আর শায়লার বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয় মাস। পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে চমৎকার একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন শায়লা আরিফকে এক অদ্ভুত অনুরোধ করে বসল। সে জানাল, বিয়ের আগে সে একজনকে ভালোবাসত, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তাকে ভুলে এই বিয়ে করতে হয়েছে। এখন সে মানুষটি ফিরে এসেছে এবং শায়লার জন্য সব ছাড়তে রাজি।

​আরিফ প্রথমে স্তব্ধ হয়ে গেল। রাগে আর অপমানে তার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছিল, কিন্তু শায়লার চোখের জল দেখে সে নিজেকে সামলে নিল। সে বুঝল, জোর করে কাউকে পাশে রাখা যায়, কিন্তু তার মন পাওয়া যায় না। আরিফ এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজেই শায়লার সাথে সেই ছেলেটির বিয়ের ব্যবস্থা করবে।

​শহর থেকে দূরে এক নির্জন মন্দিরে বিয়ের আয়োজন হলো। আরিফ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব তদারকি করছিল। প্রতিবেশীরা ভাবছে হয়তো কোনো আত্মীয়র বিয়ে, কেউ ঘুণাক্ষরেও জানে না আজ আরিফ তার নিজের স্ত্রীকেই অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে।

​বিয়ের সব কাজ শেষ হওয়ার পর শায়লা যখন বিদায় নিতে যাবে, তখন সে আরিফের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল। আরিফ হাসিমুখে বলল, "সুখী হও।"

​গাড়িটা যখন চলতে শুরু করল, আরিফ একা সেই শূন্য মন্দিরের সিঁড়িতে বসে রইল। তার মনে পড়ল রবিঠাকুরের সেই উক্তি— "ছেড়ে দিলেই যদি সে ভালো থাকে, তবে ছেড়ে দেওয়াটাই প্রকৃত প্রেম।"

​সূর্য ডুবে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। আরিফ বুঝতে পারল, আজ সে শুধু তার বউকে হারায়নি, বরং এক অদ্ভুত নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাছে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছে।

তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস। শব্দসাঁকো।

তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস। শব্দসাঁকো।

 


তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস

(নিজস্ব প্রতিবেদক)

​দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে পাম্পগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে যানবাহন ও মানুষের কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে, যার ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বাস্তব চিত্র: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের প্রবেশপথে ‘তেল নেই’ অথবা ‘সরবরাহ বন্ধ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। যে অল্প কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মোটরসাইকেল আরোহী, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং গণপরিবহনের শ্রমিকরা ড্রাম ও বোতল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

​সাভার থেকে আসা ট্রাকচালক করিম মিয়া বলেন, “গত ১২ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। এখনো পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। মালিক তাগাদা দিচ্ছে, কিন্তু তেল ছাড়া গাড়ি চলবে কীভাবে? এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে জান শেষ।”

কৃষি ও পরিবহনে প্রভাব: সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি ও পরিবহন খাতে। ডিজেল সংকটের কারণে অনেক এলাকায় সেচ পাম্প চালানো বন্ধ হয়ে গেছে, যা বোরো ধান চাষের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। এদিকে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। সুযোগ বুঝে অনেক পরিবহন চালক দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরও লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংকটের কারণ: বিশ্লেষকরা এই সংকটের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় কারণকে দায়ী করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাকে প্রধান বৈশ্বিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ডলার সংকটের কারণে সময়মতো তেলের আমদানি এলসি (LC) খুলতে না পারা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “তেলের মজুদ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তবে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে কম। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন করে কয়েকটি তেলের জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছে। আশা করা যায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

​ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার এবং অপ্রয়োজনে যানবাহন ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জনমনে প্রশ্ন একটাই—এই ‘সাময়িক’ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া হবে?

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

গল্প :অপরাজিতা  লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম ) শব্দসাঁকো।

গল্প :অপরাজিতা লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম ) শব্দসাঁকো।


 গল্প :অপরাজিতা

লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম )


সবিতাদের বাড়িটাকে বলা হতো 'বড় বাড়ি'। সাতজন চাচা, তাঁদের স্ত্রী-সন্তান এবং বৃদ্ধা দাদিকে নিয়ে এক বিশাল সংসার। সবিতার শৈশব কেটেছে এই অগণিত মানুষের ভিড়ে। সেখানে ব্যক্তিগত বলতে কিছু ছিল না; খাবার টেবিল থেকে শুরু করে শোবার ঘর—সবই ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।


সবিতার মনে পড়ে, তার মা আর কাকিমারা সূর্য ওঠার আগে রান্নাঘরে ঢুকতেন আর বের হতেন অনেক রাতে। তাঁদের জীবন ছিল ডাল-ভাতের নুন মাপার মতো হিসেবি। কিন্তু সবিতার চোখ ছিল জানালার বাইরের ওই দিগন্তজোড়া মাঠ আর বকুল গাছটার দিকে। সে স্বপ্ন দেখত বড় হয়ে সে এমন কিছু করবে যেখানে তার নিজের একটা নাম থাকবে, শুধু 'অমুকের বউ' বা 'তমুকের মা' হয়ে সে জীবন কাটাতে চায় না।



সবিতার বয়স যখন আঠারো, তখন তার বিয়ের কথা উঠল। বাড়ির বড়রা সিদ্ধান্ত নিলেন, পাশের গ্রামের এক শিক্ষিত কিন্তু রক্ষণশীল পরিবারে তার বিয়ে হবে। সবিতা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল, সে কলেজে পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু তার দাদি বলেছিলেন, "মেয়েদের অত বিদ্যা দিয়ে কী হবে? হাড়ি ঠেলতে জানলেই হলো।"


বিয়ের পর সবিতা দেখল, বাপের বাড়ির চেয়ে শ্বশুরবাড়ি আরও বেশি কঠোর। সেখানে মহিলারা উঁচু গলায় কথা বলতে পারে না, বিকেলের রোদে বারান্দায় বসতে পারে না। তার স্বামী সুনির্মল মানুষ হিসেবে মন্দ নয়, কিন্তু তার কাছে 'সংসারী স্ত্রী' মানেই হলো নিরবতা। সবিতার ভেতরে থাকা সৃজনশীল সত্তাটা তখন দম বন্ধ হয়ে মরার উপক্রম। সে লুকিয়ে ডায়েরি লিখত, আর মাঝেমধ্যে তার সবজি বাগানে গিয়ে মাটির সাথে কথা বলত।



সবিতার জীবনে পরিবর্তন এল এক বর্ষার দুপুরে। তার ছোট বোন সুমনা, যে যৌথ পরিবারের অবহেলায় চিকিৎসা না পেয়ে ভুগেছিল, সে চিঠিতে তার কষ্টের কথা লিখে পাঠাল। সবিতা উপলব্ধি করল, নারীরা যদি নিজেরা স্বাবলম্বী না হয়, তবে এই অবহেলা কোনোদিন শেষ হবে না।


সবিতা তার জমানো সামান্য কিছু টাকা আর বাপের বাড়ি থেকে আনা কিছু সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নামল। প্রথমে শাশুড়ি আর স্বামী খুব বাধা দিলেন। পাড়ার লোকেরা হাসাহাসি করত, "বড় ঘরের বউ এখন দর্জিগিরি করবে?" কিন্তু সবিতা ছিল স্থির। সে গ্রামের আরও কয়েকজন বিধবা আর অসহায় নারীকে সাথে নিল। বাড়ির পেছনের ভাঙা ঘরটাতে শুরু হলো তাদের সেলাই আর কুটির শিল্পের কাজ।



এক সময় বড় ধরনের সংকট এল। সুনির্মলের ব্যবসায় ধস নামল। পুরো পরিবার যখন দিশেহারা, তখন সবিতার জমানো টাকা আর তার ছোট কারখানাটিই ঢাল হয়ে দাঁড়াল। যে শাশুড়ি তাকে কাজ করতে বাধা দিতেন, তিনিই একদিন সবিতার হাতে বাড়ির চাবি তুলে দিলেন। সবিতা প্রমাণ করল যে, নারী শুধু ঘর সামলায় না, সংকটে ঘরের খুঁটিও হতে পারে।


সবিতার সেই ছোট সেলাইয়ের কাজ এখন 'বকুল সমবায়' নামে পরিচিত। গ্রামের প্রায় পঞ্চাশজন নারী সেখানে কাজ করে। সবিতা এখন আর কেবল ঘোমটা টানা বউ নয়, সে ওই এলাকার নারীদের প্রেরণার উৎস।



আজ সবিতার চুলে পাক ধরেছে। সে এখন তার নিজের তৈরি লাইব্রেরিতে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। তার জীবনে কোনো আক্ষেপ নেই। সে তার আত্মজীবনীতে শেষ লাইনে লিখল:


"যৌথ পরিবারের কোলাহলে আমি একদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম ঠিকই, কিন্তু নিজের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আমি এমন এক আকাশ তৈরি করেছি যেখানে ডানা মেলার অধিকার প্রতিটি নারীর আছে।"


                 ~সমাপ্ত ~

শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 


শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​গল্পের চরিত্রসমূহ:

​১. মোবারক সাহেব: বাড়ির কর্তা, যিনি বাথরুমের চাবি হারিয়ে চরম বিপাকে।

২. জরিণা বেগম: মোবারক সাহেবের স্ত্রী, অত্যন্ত কড়া মেজাজের এবং বর্তমানে চাবির একমাত্র মালিক।

৩. বল্টু: মোবারক সাহেবের ফাঁকিবাজ ছোট ছেলে, যে সবকিছুর মধ্যে সুযোগ খোঁজে।

৪. পিঙ্কি: বড় মেয়ে, যে সারাক্ষণ সেলফি আর মেকআপ নিয়ে ব্যস্ত।

৫. মকবুল চাচা: পাশের বাড়ির কৌতূহলী প্রতিবেশী, যিনি বিনা আমন্ত্রণে সবখানে নাক গলান।

৬. কদম আলী: বাড়ির কাজের লোক, যে একটু কানে কম শোনে এবং অদ্ভুত সব কাণ্ড করে।

​মূল গল্প:

​ভোর ছয়টা। মোবারক সাহেবের ঘুম ভাঙল এক অদ্ভুত অস্বস্তি নিয়ে। পেটের ভেতর যেন একঝাঁক ড্রামিবাদক তবলার রিদমে প্র্যাকটিস শুরু করেছে। মোবারক সাহেব দ্রুত বিছানা ছেড়ে বাথরুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। হ্যান্ডেল ঘোরালেন, কিন্তু দরজা খুলল না। ধাক্কা দিলেন, কাজ হলো না। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলেন—দরজায় একটা বড়সড় চায়না তালা ঝুলছে!

​মোবারক সাহেব চিৎকার করে উঠলেন, "ওগো শুনছ, বাথরুমে তালা কেন? চাবি কোথায়?"

​রান্নাঘর থেকে খুন্তি নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে এলেন জরিণা বেগম। শান্ত গলায় বললেন, "চাবি আমার আঁচলে। আজ থেকে এই বাড়িতে বাথরুম ব্যবহার করতে হলে পারমিশন লাগবে। নিয়ম জারি করেছি।"

​মোবারক সাহেব কপাল চাপড়ে বললেন, "নিয়ম মানে? আরে বাবা, এটা কি রেশন অফিস নাকি? আমার খুব ইমার্জেন্সি, চাবিটা দাও!"

​জরিণা বেগম সোফায় গিয়ে আয়েশ করে বসলেন। "কাল রাতে তুমি বলেছিলে আমার হাতের রান্না নাকি লবনাক্ত হয়েছে? আজ সেই লবণের শোধ নেব। আগে মাফ চাও, তারপর চাবি।"

​ঠিক এই সময়ে সেখানে হাজির হলো বল্টু। বল্টুর হাতে একটা খাতা আর কলম। সে ফিসফিস করে বাবার কানে বলল, "আব্বা, আম্মার সাথে ডিল করে লাভ নাই। আমার কাছে একটা অফার আছে। আমি জানি পাশের গলির পাবলিক টয়লেটের চাবি কার কাছে। মাত্র ৫০০ টাকা দিলেই ব্যবস্থা করে দেব।"

​মোবারক সাহেব খেঁকিয়ে উঠলেন, "হারামজাদা! বাপের বিপদে তুই ব্যবসা খুঁজছিস? যা এখান থেকে!"

​এদিকে বড় মেয়ে পিঙ্কি তার ঘর থেকে বেরিয়ে এল। পরনে সিল্কের গাউন, হাতে আইফোন। সে বাথরুমের তালার সামনে দাঁড়িয়ে একটা করুণ মুখ করে সেলফি তুলল। ক্যাপশন দিল— "Home Sweet Home, But Bathroom is Blocked! Feeling Constipated with 44 others."

​মোবারক সাহেব এবার সত্যি সত্যি কাঁদতে বাকি রাখলেন। পেটের ঢাক-ঢোল এখন রীতিমতো অর্কেস্ট্রার রূপ নিয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে কদম আলীকে ডাকলেন। "কদম! ওরে কদম! একটা হাতুড়ি নিয়ে আয় তো, এই তালাটা ভাঙতে হবে।"

​কদম আলী এক গাল হাসি নিয়ে এল। "কী বললেন খালুজান? আম পাড়তে হবে? এই সাত সকালে আম কই পাব?"

​"আরে গাধা! আম না, তালা! তালা ভাঙবি!" মোবারক সাহেব চিল চিৎকার দিলেন।

​কদম আলী মাথা চুলকে বলল, "ও আচ্ছা, থালা ধুতে হবে? ঠিক আছে, নিয়ে আসছি সাবান।" সে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

​এরই মধ্যে ড্রয়িংরুমের জানলা দিয়ে উঁকি দিলেন প্রতিবেশী মকবুল চাচা। মকবুল চাচার কাজই হলো মানুষের বিপদে জ্ঞান দেওয়া। তিনি বললেন, "মোবারক ভাই, ঘটনা কী? বাথরুমের সামনে এত জটলা কেন? আন্দোলন হচ্ছে নাকি?"

​মোবারক সাহেব দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, "মকবুল ভাই, জানলাটা বন্ধ করেন তো! পেটের ব্যথায় জীবন যায় আর আপনি আসছেন ইন্টারভিউ নিতে!"

​মকবুল চাচা দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি বললেন, "শুনেন ভাই, আমার এক মামাতো ভাই আছে তালা বিশেষজ্ঞ। তবে সে এখন জেলে। আপনি বরং এক কাজ করেন, লেবুর শরবত খান। পেটের চাপ কমবে।"

​মোবারক সাহেব রাগে ফেটে পড়লেন। "লেবুর শরবত খেলে চাপ কমবে না বাড়বে রে ভাই? আপনারা কি আমাকে মারতে চান?"

​জরিণা বেগম এবার ড্রয়িংরুম থেকে ঘোষণা করলেন, "চাবি পেতে হলে শর্ত নম্বর দুই—আগামী এক মাস বাজারের ব্যাগ আমি চেক করব। কোনো লুকানো বিড়ি বা জর্দা পাওয়া গেলে বাথরুম চিরস্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে!"

​মোবারক সাহেব নিরুপায় হয়ে সোফায় ধপাস করে বসে পড়লেন। পেটের ভেতর তখন যুদ্ধংদেহী অবস্থা। তিনি বল্টুকে ডাকলেন, "বল্টু বাবা, তোর অফারটা এখনো আছে? কত বললি যেন?"

​বল্টু দাত বের করে হাসল। "এখন তো ডিমান্ড বেড়ে গেছে আব্বা। এখন ১০০০ টাকা। সাথে এক প্যাকেট চকোলেট।"

​মোবারক সাহেব পকেট থেকে ১০০০ টাকার নোট বের করতে যাবেন, এমন সময় কদম আলী এক বালতি পানি নিয়ে হাজির হলো। সে ভাবল বাথরুমে পানি নেই বলে খালুজান চিৎকার করছেন। সে বিনা নোটিশে বাথরুমের দরজার ওপর ঢক ঢক করে পানি ঢালতে শুরু করল।

​"আরে থাম! থাম!" মোবারক সাহেব কদমকে বাধা দিতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেলেন মেঝেতে। পিঙ্কি সেই মুহূর্তটা ভিডিও করে ফেলল। "Breaking News: Dad's Epic Fall for Bathroom Key! #ViralVideo #FamilyDrama."

​ঠিক তখন বাড়ির ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল। জরিণা বেগম ফোন ধরলেন। ওপাশ থেকে মোবারক সাহেবের শাশুড়ি ফোন করেছেন। জরিণা বেগম ফোনে বলতে লাগলেন, "মা, তোমার জামাইকে আজ টাইট দিচ্ছি। সারা জীবন আমার ওপর হুকুম চালিয়েছে, আজ বুঝুক চাবি কার হাতে!"

​মোবারক সাহেব এবার হামাগুড়ি দিয়ে জরিণা বেগমের পা ধরতে গেলেন। "ওগো, তুমি যা বলবে তাই শুনব। বাজার আমিই করব, ঘর আমিই মুছব। এমনকি তোমার সিরিয়াল দেখার সময় রিমোটও ধরব না। দয়া করে চাবিটা দাও, আমার নাড়িভুঁড়ি সব এক হয়ে যাচ্ছে!"

​জরিণা বেগমের মন একটু গলল। তিনি আঁচল থেকে চাবিটা বের করে মোবারক সাহেবের দিকে ছুঁড়ে দিলেন। মোবারক সাহেব যেন অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন! তিনি লাফ দিয়ে চাবিটা ধরলেন এবং তালার ফুটোয় ঢোকালেন।

​কিন্তু কপাল খারাপ! চাবি ঘুরছে না। মোবারক সাহেব ঘামতে ঘামতে বললেন, "জরিণা, চাবি তো ঘোরে না! এটা কিসের চাবি?"

​জরিণা বেগম চাবির দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলেন। "ওমা! এটা তো আমার আলমারির চাবি! বাথরুমের চাবি তো মনে হয় ডাইনিং টেবিলের ওপর ফেলে এসেছি!"

​মোবারক সাহেবের মুখ তখন নীল হয়ে গেছে। তিনি ডাইনিং টেবিলের দিকে দৌড় দিলেন। কিন্তু সেখানে চাবি নেই। বল্টু তখন এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসছে। তার হাতে আসল চাবি। বল্টু বলল, "আব্বা, ১০০০ টাকা তো দিলে না। চাবিটা কিন্তু আমার কাছেই ছিল।"

​মোবারক সাহেব আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বল্টুর হাত থেকে চাবিটা একরকম ছিনিয়ে নিলেন। এবার তালা খুলল। মোবারক সাহেব ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। বাইরে থেকে শোনা গেল তার দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।

​বাইরে তখন মকবুল চাচা চেঁচিয়ে বলছেন, "মোবারক ভাই, সাকসেস? অভিনন্দন! মিষ্টি খাওয়ান!"

​পিঙ্কি লাইভে এসে বলছে, "Guys, finally the mission is accomplished! My dad is now officially in the bathroom. Stay tuned for more updates."

​আধা ঘণ্টা পর মোবারক সাহেব যখন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলেন, তার চেহারায় তখন পৃথিবীর সমস্ত প্রশান্তি। তিনি জরিণা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন, "জরিণা, শোনো। আজ থেকে এই বাড়িতে ডেমোক্রেসি চলবে। বাথরুমের চাবি কেউ নিজের কাছে রাখবে না। ওটা দরজাতেই থাকবে।"

​কদম আলী তখন এক প্লেট মিষ্টি নিয়ে ঘরে ঢুকল। "খালুজান, আপনি বাথরুম থেকে বের হয়েছেন খুশিতে পাশের বাসার ভাবি মিষ্টি পাঠিয়েছে।"

​মোবারক সাহেব একটা মিষ্টি মুখে দিয়ে বললেন, "এই শহরে একটা কথা প্রচলিত আছে—বউয়ের মন আর বাথরুমের চাবি, এই দুইটা যার হাতে থাকে, সেই আসল রাজা!"

​পুরো ড্রয়িংরুমে হাসির রোল পড়ে গেল। শুধু পিঙ্কি বিরস মুখে বলল, "ধুত্তোর! এত সুন্দর ড্রামাটা শেষ হয়ে গেল? আমার ফলোয়াররা তো আরও অ্যাকশন চাইছিল!"

​বল্টু পকেটে ১০০০ টাকা গুঁজে মিটিমিটি হাসতে হাসতে নিজের ঘরে চলে গেল। আর মোবারক সাহেব ঠিক করলেন, আজ বিকেলেই তিনি বাথরুমের দরজায় একটা অটোমেটিক লক লাগিয়ে নেবেন, যার কোনো চাবিই থাকবে না!

সমাপ্ত

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 

রূপলেখা প্রকাশন 

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​শহরের যান্ত্রিকতায় দমবন্ধ করা বিকেলগুলো যখন জানলার কার্নিশে এসে জমা হয়, তখন অপুর খুব মনে পড়ে নীলার কথা। নীলা—যে মেয়েটা চৈত্র মাসের তপ্ত দুপুরেও একরাশ শীতলতা নিয়ে আসত। অপুর কাছে প্রেম মানে কেবল হাত ধরা বা চোখে চোখ রাখা ছিল না, প্রেম ছিল এক বিশেষ ঘ্রাণ।

​নীলার শরীরের সেই ঘ্রাণটা অদ্ভুত। না, কোনো নামী ব্র্যান্ডের পারফিউম নয়, বরং বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর হালকা কামিনী ফুলের মিশ্রণ যেন সারাক্ষণ ওকে ঘিরে থাকত। অপু যখনই নীলার খুব কাছাকাছি বসত, এক দীর্ঘশ্বাস টেনে সেই ঘ্রাণটা নিজের ভেতরে পুষে রাখার চেষ্টা করত।

​একদিন গঙ্গার ঘাটে বসে অপু জিজ্ঞেস করেছিল, "আচ্ছা নীলা, তোমার গায়ের এই ঘ্রাণটা কিসের বলতো? ঠিক যেন শরতের ভোরের শিউলি ফুলের মতো।"

​নীলা মৃদু হেসে বলেছিল, "পাগল! শরীরের কি আবার আলাদা ঘ্রাণ থাকে? ওটা তোমার মনের ভুল।"

​অপু জেদ ধরে বলত, "না, এটা কোনো ভুল নয়। ভিড়ের মাঝে চোখ বন্ধ করে থাকলেও আমি ঠিক বুঝে যাব তুমি কোথায় আছো। এই ঘ্রাণটা আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন।"

​দিন যায়, সময় বদলায়। মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে নীলা আজ অন্য কারো ঘরের ঘরণী। অপুর ডায়েরির পাতায় এখন শুধু ধূসর স্মৃতি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজও যখন কোনো বৃষ্টির দিনে অপুর ঘরের জানলা দিয়ে ভেজা বাতাসের ঝাপটা আসে, তখন সে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তার মনে হয়, নীলা বুঝি পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।

​অপু এখন একা থাকে। সেই নীল শাড়িটা আজও আলমারির এক কোণে যত্ন করে রাখা, যেটা নীলা শেষবার দেখা করার দিন পরেছিল। মাঝে মাঝে মধ্যরাতে অপু সেই শাড়িটা বের করে মুখের কাছে ধরে। বহু বছর কেটে গেছে, তবুও কাপড়ের ভাঁজে যেন সেই অতি চেনা শরীরের ঘ্রাণটা এখনো লেগে আছে।

​আসলে মানুষের শরীর হারিয়ে যায়, মানুষ বদলে যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষের সেই মায়াভরা ঘ্রাণটা হৃদয়ের গভীর থেকে কখনো মুছে যায় না। স্মৃতিরা যখন কথা বলে ওঠে, তখন সেই ঘ্রাণটাই হয়ে ওঠে এক নিঃসঙ্গ প্রেমিকের পরম আশ্রয়।

কবিতাঃ সন্ধ্যা   লেখিকাঃ রওনক জাহান।  শব্দসাঁকো।

কবিতাঃ সন্ধ্যা লেখিকাঃ রওনক জাহান। শব্দসাঁকো।


 কবিতাঃ সন্ধ্যা 

লেখিকাঃ রওনক জাহান 



নেমেছে সন্ধ্যা, মেরুন কমলা রঙের আভা

একপাশে লল টকটকে গোলকার সূর্যের গমন 

আপর পাশেই আবার এক সাদা চাঁদের আগমন 

মিলছে সাথে তারার আলাপ, বসেছে তাদের সভা।


কি অপরুপ, অমলিন অপলক তাকিয়ে থাকি

প্রকৃতির এক লীলাময় দৃশ্য, দেখতে লাগে বেশ

এই বুঝি থেমেছে আকাশ, একটুতেই তো শেষ 

সূর্য চাঁদ তারার মাঝে কিছু মেঘেরাও দেয় উঁকি। 


এ-তো এক আজব পরিবেশ এক উজ্জ্বল আলো

যাই যাই বলেও যেন থমকে গেছে সূয্যিমামা 

তার আলোতে বাধা আছে, তারাদের জ্বলতে মানা

এই আছে এক বিন্দু ছায়া, অল্পতেই হয় কালো।


প্রতিটা পলকে যেন এক নতুন দৃশ্য, নতুন কোনো ছবি

তাই হাতে কলম আমার, হয়ে গেলাম আজ কবি।


কম খরচে উন্নতমানের বই প্রকাশ, 

আপনার বিশ্বস্ত 

রূপলেখা প্রকাশন। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজাদীরা লড়ে   — তাহসিন তালুকদার

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজাদীরা লড়ে — তাহসিন তালুকদার

 


দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজাদীরা লড়ে 

— তাহসিন তালুকদার 


দুর্নীতির বিরুদ্ধে পারে না কেউ রুখতে 

আর যে একজন দাঁড়ায় রুখে,

অমানুষেরা সম্মেলিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে 

মেরে ফেলে মাটি দিয়ে দেয় তার মুখে। 


সোনার বাংলায় দুর্নীতি নামক 

শব্দটি হয়ে গেছে প্রচলিত, 

দিনে-রাতে যে কোন পরিস্থিতিতে 

দুর্নীতি যে চলছে প্রতিনিয়ত। 


এক জালিমকে বিদায় দিয়ে 

মনে করো না, হয়ে গেছে সবকিছু,

আরেক জালিম সেজে এসেছে 

পূর্বের জালিম থেকেও ভয়ঙ্কর কিছু। 


সবাইকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে 

দাঁড়াতে হবে একসাথে, 

শত জালিমকে অতিক্রম করেই

বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে সোনার বাংলাতে।


কম খরচে উন্নতমানের বই প্রকাশ করার জন্য 

যোগাযোগ করেন আপনার বিশ্বস্ত রূপলেখা প্রকাশন এর সাথে। 

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

কবিতা:- পানির শহরে পানির অভাবেই অগ্নিকান্ড,   কবি:- তাহসিন তালুকদার।  শব্দসাঁকো।

কবিতা:- পানির শহরে পানির অভাবেই অগ্নিকান্ড, কবি:- তাহসিন তালুকদার। শব্দসাঁকো।

  

কবিতা:- পানির শহরে পানির অভাবেই অগ্নিকান্ড 

কবি:- তাহসিন তালুকদার 


পানির শহর সুনামগঞ্জে,

হলো অগ্নিকাণ্ড—পানিরই অভাবে।

সময়মতো হয় না কোনো কাজ,

সময় গড়িয়ে অসময়ে ডেকে আনে সর্বনাশ।


যে রাষ্ট্র পানির শহরেই করতে পারে না

বিপদে কাজে লাগার মতো পানির ব্যবস্থা,

সে রাষ্ট্রে কিভাবে থাকবে সমগ্র দেশ নিরাপদ—

কিরূপে রাখি তবে তাদের প্রতি আস্থা?


যে রাষ্ট্র একটি শহরের বিপদ-আপদে 

নিশ্চিতভাবে দিতে পারে না নিশ্চয়তা,

সে রাষ্ট্রে গোটা দেশ যদি ধ্বংসস্তূপে পরিণত 

হয়—তবু হবে না তাদের কিঞ্চিত ভাবনা।


আদৌ কি এ রাষ্ট্র হবে সংস্কার-সভ্যতার?

কতটুকু হওয়া যায় সে আশায় আশাবাদী!

এ রাষ্ট্রে যে আমাদের নিজস্ব প্রাণেরও

নেই কোনো নিশ্চয়তার বাঁধনখানি।

গল্প: পুরুষের নীরব জীবনের কষ্ট  — নাজমিন আক্তার।  শব্দসাঁকো।

গল্প: পুরুষের নীরব জীবনের কষ্ট — নাজমিন আক্তার। শব্দসাঁকো।

লেখিকা: নাজমিন আক্তার। 

 গল্প: পুরুষের নীরব জীবনের কষ্ট

    — নাজমিন আক্তার 


 - পুরুষ মানুষের জীবন কেনো এমন হয়?

তাদের ও অনেক দুঃখ আছে,কষ্ট আছে; তারাও যে কান্না করতে পারে সেটা কেনো কেউ কখনো ভাবে না?


কথাগুলো রাতের খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো রিদুয়ান।


রিদুয়ান একজন প্রবাসী। তার বয়স ২৮ বছর। সে তার পরিবারের সুখের জন্য নিজের মাতৃভূমি কে ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছে! 


রিদুয়ান ভাবছে,পরিবারের ভালোর জন্য ছেলেরা কতো কিছুই না সহ্য করে,মানিয়ে নেয়,অল্প বয়সেও অনেকে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নেয়। কেউ কেউ নিজের দেশেই কাজ করে জীবন চালিয়ে নেয় আবার কেউ কেউ পরিবার,ঘর-সংসার সুন্দর মতো পরিচালনা করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়!


রিদুয়ানের অনেক স্বপ্ন ছিলো। সে খুব পড়াশোনা করবে,নিজের দেশে থেকেই কিছু একটা করবে,কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিলো না। পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন কে মাটি চাপা দিয়ে দূর প্রবাসে পাড়ি দিয়েছে।


হুট করে কথাগুলো মনে পড়ায়,রিদুয়ান একটা নীরব জায়গায় গিয়ে বসলো এবং কথাগুলো একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে একা একাই কথা বলছিলো!


রিদুয়ান যেখানে কাজ করে সেখানে তার কাজের সমস্যা অনেক। ঠিকঠাক মতো বেতন পায় না। তার মাথার উপর অনেক চার। সে নিজে কোনো রকম চললেও;তার পরিবারের কেউ যেনো সমস্যায় না পড়ে সেই দিকে সব সময় নজর রাখবে।


রিদুয়ান সবার চাওয়া-পাওয়ায় দিকে খেয়াল রাখে,সবার শখ পূরণ করায় সব সময় তৎপর থাকে। তবুও কারো মন রাখতে পারে না। সবার যেনো অভিযোগের শেষ নেই;এইটা যে শুধু রিদুয়ানের একার সমস্যা তা নয়,সকল প্রবাসী ছেলেদের একই অবস্থা! 


রিদুয়ান মাটিতে বসে মাথা টা নিচের দিকে করে মাটিতে তাকিয়ে বললো____


আমরা পরিবারের থেকে দূরে থাকি,প্রবাসে থাকি বলে কি আমরা আমাদের পরিবারের কাছে পর হয়ে গেলাম? আমাদের কে কি তাদের মনে পড়ে না? প্রয়োজন ছাড়া কেনো খোঁজ-খবর নেয় না? কিভাবে আছি,কি খাচ্ছি,বাসায় যাওয়ার কথাও তো কেউ বলে না!


রিদুয়ান ভেবে পায় না,দুনিয়াতে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও পুরুষের জীবন কেনো এমন ছন্নছাড়া হয়। পুরুষ মানুষ কেনো মেয়েদের মতো যখন তখন কান্না করে নিজের কষ্ট কে হালকা করতে পারে না?


রিদুয়ান নিজেই নিজেকে উত্তর দিলো_____


পৃথিবীর বুকে পুরুষ মানুষ শুধু একটা কঠিন বস্তুর মতো,আমাদের কান্না করতে যে মানায় না; তাহলে দুনিয়ার মানুষ বুঝে যাবে আমার অপদার্থ, আমরা নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ তাদের সামলাবো কি করে?


আসল পুরুষ কখনো কান্না করে না,করলেও তা লোকসমাজে তা বেমানান তাই দেখানো যাবে না,পুরুষ মানুষ ভিতরে ভিতরে ধ্বংস হলে ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেলেও বাহিরে তাকে সর্বদা লোহার মতো অটুট থাকতে হবে; তবেই সে পুরুষ হিসেবে গন্য ধরা হয় লোকসমাজে! 


বিয়ের আগে একটা পুরুষ মানুষের জীবন যেমন খুশি কেঁটে গেলোও বিয়ের পরেই শুরু হয় জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যেখানে সে পদে পদে ভুল প্রমাণীত হয়!


বিয়ের পরে দেখা যায় —


মা আর বউয়ের মধ্যে অনেক কিছু নিয়ে সমস্যা হয়,অনেক ঝামেলা হয়। অনেক সময় দেখা যায় মা আর বউ দু'জনের ঝগড়া ও হয়ে যায়। তারা কেউ কাউকে ছাড় দেয় না।


 সারাদিন সেই পুরুষ টা যদি কাজ থেকে বাসায় ফিরে ঘরে শান্তি না পেয়ে এমন অশান্তি পায় তাহলে কেমন লাগে? মা আর বউ দু'জনেই ঝামেলা করে,একজন তার স্বামী কে বলে বিচার করতে আরেকজন তার ছেলেকে বলে বিচার করতে!


একটা ছেলের কাছে তার মা এবং বউ দু'জনেই খুব প্রিয় হয়ে থাকে। বউ আর মা তারা একে উপরকে মাঝে মাঝে প্রতিযোগিতায় দাঁড় করায়,ছেলেটা কার বিচার করবে আর কাকে বেশি ভালোবাসে তা দেখার জন্য!


মা হলো একটা ছেলের আবেগ,ভালোবাসা তার জান্নাত। মায়ের জন্য কিন্তু একটা ছেলে বাবার সাথে ঝগড়া করতে পারে। মা'কে যে ছেলেরা কতোটা ভালোবাসে সেটা যদি তাদের মা'রা বুঝতো তাহলে কোনো মা ছেলে কষ্ট পাবে এমন কোনো কাজ করতে পারতো না। এমনি ছেলের ভালোর জন্য শান্তির জন্য ছেলের বউয়ের সাথেও কখনো ঝামেলা হয়তো করতো না!


স্ত্রী হলো স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী। দুনিয়ার প্রথম সম্পর্কই হলো স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক। তারা এক আত্মা দু'টো প্রাণ। বউ কে ছাড়া পুরুষ মানুষের জীবন অপূর্ণ হয়ে থাকে। বউকে একটা পুরুষ তার সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে ভালোবাসে। যদি বউয়েরা বুঝতো তাদের স্বামী'র কি কষ্ট হয় এইসব ঝামেলা দেখতে,অশান্তি'তে মরে যেতে ইচ্ছে হয়,তাহলে হয়তো বউ হয়ে সে স্বামী'র খুশির জন্য সব মেনে নিয়ে শান্তি বজায় রাখতো আর শাশুড়ী কেও মা মনে করতো!


মা আর বউ মিলেমিশে থাকলে একটা পুরুষের জীবনে যতোই দুঃখ,কষ্ট থাক সে ঠিকই তা পার করে জীবনে সুখী হতে পারবে কিন্তু ঘরে শান্তি না থাকলে বাহিরে কি করে সেই শান্তি মিলবে?


একটা পুরুষ'কে বাহিরে কাজ করতে হয়,কাজের ওইখানে কতো মানুষের কতো রকমের কথা সহ্য করে টাকা উপার্জন করতে হয়,এমনে এমনেই কেউ টাকা দিয়ে দেয় না। পুরুষ মানুষের কাঁধেই সংসারের ভার,সকলের চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করার ভার থাকে,ভাই-বোনদের বড় করতে হয়,পড়াশোনা করাতে হয়,বিয়ে শাদীর এমন অনেক কিছুই তার মাথায় সব সময় চিন্তা থাকে,মাঝে মাঝে এইসব চিন্তায় সে রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পর্যন্ত পারে না!


একটা পুরুষ মানুষের দায়িত্ব সব করার সে করেও,কিন্তু তারও তো মন চায় আমাকে কেউ একটু বুঝুক,আমাকেও সবাই ভালোবাসুক,কারণে-অকারণে সবাই আমার খোঁজ করুক। 


রিদুয়ানের আর কিছু ভাবতে ইচ্ছে করছে না, তার মাঝে মাঝেই মনে হয় আমি মরে যাই,হয়তো মরে গেলেই সব শান্তি মিলবে।


 আমি তো শুধুমাত্র সবার একটু ভালোবাসা চেয়েছিলাম,সবাই আমাকে বুঝবে সে আশা করেছিলাম,আমার বিপদে হাত না ছেড়ে আমার পাশে ভরসার হাত বাড়াবে ভেবেছিলাম; তা আর হলো কোথায়? আমি একাই সব সহ্য করছি করে যাচ্ছি,আমার রাতে ঘুম হয় না,ঠিকঠাক খাওয়া হয় না কতোদিন,মাথা ব্যাথা করে প্রচুর কাজের সমস্যা,পরিবারের দিক দিয়েও শান্তি নেই,নিজেকে খুব অসহায় লাগছে আল্লাহ্!


রিদুয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। তারপর বললো_____


আমি মরে গেলে আমার ঘর-সংসার,পরিবারের কি হবে?

তাদের দায়িত্ব কে নিবে?

তারা সমাজে কিভাবে বেঁচে থাকবে?


তাদের জন্য হলেও আমাকে বেঁচে থাকতে হবে,বাসায় ফিরে যাই সকালে কাজ করতে যেতে হবে,মেনে নিতে হবে,মানিয়েও নিতে হবে,কান্না আসলেও তা লোকসমাজে দেখানো যাবে না সব সহ্য করে নিতে হবে;কারণ, “এটাই আমাদের পুরুষ মানুষের জীবন!”


______সমাপ্ত______