সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস। শব্দসাঁকো।

তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস। শব্দসাঁকো।

 


তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস

(নিজস্ব প্রতিবেদক)

​দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে পাম্পগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে যানবাহন ও মানুষের কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে, যার ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বাস্তব চিত্র: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের প্রবেশপথে ‘তেল নেই’ অথবা ‘সরবরাহ বন্ধ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। যে অল্প কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মোটরসাইকেল আরোহী, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং গণপরিবহনের শ্রমিকরা ড্রাম ও বোতল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

​সাভার থেকে আসা ট্রাকচালক করিম মিয়া বলেন, “গত ১২ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। এখনো পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। মালিক তাগাদা দিচ্ছে, কিন্তু তেল ছাড়া গাড়ি চলবে কীভাবে? এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে জান শেষ।”

কৃষি ও পরিবহনে প্রভাব: সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি ও পরিবহন খাতে। ডিজেল সংকটের কারণে অনেক এলাকায় সেচ পাম্প চালানো বন্ধ হয়ে গেছে, যা বোরো ধান চাষের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। এদিকে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। সুযোগ বুঝে অনেক পরিবহন চালক দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরও লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংকটের কারণ: বিশ্লেষকরা এই সংকটের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় কারণকে দায়ী করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাকে প্রধান বৈশ্বিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ডলার সংকটের কারণে সময়মতো তেলের আমদানি এলসি (LC) খুলতে না পারা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “তেলের মজুদ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তবে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে কম। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন করে কয়েকটি তেলের জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছে। আশা করা যায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

​ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার এবং অপ্রয়োজনে যানবাহন ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জনমনে প্রশ্ন একটাই—এই ‘সাময়িক’ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া হবে?