বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 

রূপলেখা প্রকাশন 

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​শহরের যান্ত্রিকতায় দমবন্ধ করা বিকেলগুলো যখন জানলার কার্নিশে এসে জমা হয়, তখন অপুর খুব মনে পড়ে নীলার কথা। নীলা—যে মেয়েটা চৈত্র মাসের তপ্ত দুপুরেও একরাশ শীতলতা নিয়ে আসত। অপুর কাছে প্রেম মানে কেবল হাত ধরা বা চোখে চোখ রাখা ছিল না, প্রেম ছিল এক বিশেষ ঘ্রাণ।

​নীলার শরীরের সেই ঘ্রাণটা অদ্ভুত। না, কোনো নামী ব্র্যান্ডের পারফিউম নয়, বরং বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর হালকা কামিনী ফুলের মিশ্রণ যেন সারাক্ষণ ওকে ঘিরে থাকত। অপু যখনই নীলার খুব কাছাকাছি বসত, এক দীর্ঘশ্বাস টেনে সেই ঘ্রাণটা নিজের ভেতরে পুষে রাখার চেষ্টা করত।

​একদিন গঙ্গার ঘাটে বসে অপু জিজ্ঞেস করেছিল, "আচ্ছা নীলা, তোমার গায়ের এই ঘ্রাণটা কিসের বলতো? ঠিক যেন শরতের ভোরের শিউলি ফুলের মতো।"

​নীলা মৃদু হেসে বলেছিল, "পাগল! শরীরের কি আবার আলাদা ঘ্রাণ থাকে? ওটা তোমার মনের ভুল।"

​অপু জেদ ধরে বলত, "না, এটা কোনো ভুল নয়। ভিড়ের মাঝে চোখ বন্ধ করে থাকলেও আমি ঠিক বুঝে যাব তুমি কোথায় আছো। এই ঘ্রাণটা আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন।"

​দিন যায়, সময় বদলায়। মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে নীলা আজ অন্য কারো ঘরের ঘরণী। অপুর ডায়েরির পাতায় এখন শুধু ধূসর স্মৃতি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজও যখন কোনো বৃষ্টির দিনে অপুর ঘরের জানলা দিয়ে ভেজা বাতাসের ঝাপটা আসে, তখন সে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তার মনে হয়, নীলা বুঝি পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।

​অপু এখন একা থাকে। সেই নীল শাড়িটা আজও আলমারির এক কোণে যত্ন করে রাখা, যেটা নীলা শেষবার দেখা করার দিন পরেছিল। মাঝে মাঝে মধ্যরাতে অপু সেই শাড়িটা বের করে মুখের কাছে ধরে। বহু বছর কেটে গেছে, তবুও কাপড়ের ভাঁজে যেন সেই অতি চেনা শরীরের ঘ্রাণটা এখনো লেগে আছে।

​আসলে মানুষের শরীর হারিয়ে যায়, মানুষ বদলে যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষের সেই মায়াভরা ঘ্রাণটা হৃদয়ের গভীর থেকে কখনো মুছে যায় না। স্মৃতিরা যখন কথা বলে ওঠে, তখন সেই ঘ্রাণটাই হয়ে ওঠে এক নিঃসঙ্গ প্রেমিকের পরম আশ্রয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

0 Please Share a Your Opinion.: