শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

কবিতা: চৈত্রের দাহন  লেখনীতে:আইরিশা হানীন। শব্দসাঁকো।

কবিতা: চৈত্রের দাহন লেখনীতে:আইরিশা হানীন। শব্দসাঁকো।

 কবিতা: চৈত্রের দাহন


লেখনীতে:আইরিশা হানীন 


চৈত্রের রোদ  যেন আগুন হয়ে নামে,

আকাশ জুড়ে জ্বলছে যেন নীরব দাহন ।

হাওয়া নেই, শুধু তপ্ত নিঃশ্বাস,

প্রকৃতি আজ ক্লান্ত, অবসন্ন।

ঘাম ঝরে পড়ে বিন্দু বিন্দু,

মুখে শুকিয়ে যায় কথার স্রোত।

রাস্তাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে,

ছায়ারাও যেন খোঁজে আশ্রয় একটু।

সূর্যটা যেন আজ বেজায় রাগী ,

কৃপা নেই তার, নেই কোনো দয়া।

মাটির বুকে আগুনের চাদর,

জীবন যেন থমকে দাঁড়ায়।

তবু এই দহন পেরিয়ে একদিন,

নামবে বৃষ্টি, ভিজবে ধরণী।

এই গরমের ক্লান্তি ভুলিয়ে,

নতুন করে হাসবে এই ধরনী।


(সমাপ্ত)

কবিতাঃ বসন্তদূত  লেখনীতেঃ সায়ন্তনী সুপ্তি।  শব্দসাঁকো।

কবিতাঃ বসন্তদূত লেখনীতেঃ সায়ন্তনী সুপ্তি। শব্দসাঁকো।

 কবিতাঃ বসন্তদূত

লেখনীতেঃ সায়ন্তনী সুপ্তি 



শীততাপে পোড়া রুক্ষ প্রকৃতির দ্বারে 

আজ বসন্তদূতের আগমন,

দক্ষিণ বাতাসের দোলায় আন্দোলিত,

শাখীময় সুশোভিত পুষ্পমঞ্জুরী,

             সাথে,

কপোত-কপোতীদের হৃদয়ে 

ভালোবাসার প্রাণোচ্ছাস।


নব-ফাল্গুন সর্বত্র বিরাজিত

তবু আমার হৃদয় দ্বার-গোড়ায়, 

চিত্তলগ্ন ফাল্গুনের অনুপস্থিতি।

কোনো এক নির্জনতায় সে'ও হয়তো 

আমার জন্য অপেক্ষারত। 


বহু যুগের প্রতিক্ষায় এমনি এক ফাল্গুনে

       দুজনের সাক্ষাৎ হবে, 

হৃদয় অঙ্গিনায় সেদিন আমার'ও চিরবসন্ত ধরা দেবে, 

আর সে হবে আমার, "বসন্তদূত"।

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম: ২০২৬ সালে জনপ্রিয় ও কার্যকরী ৫টি উপায়। শব্দসাঁকো।

ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম: ২০২৬ সালে জনপ্রিয় ও কার্যকরী ৫টি উপায়। শব্দসাঁকো।

 


ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম: ২০২৬ সালে জনপ্রিয় ও কার্যকরী ৫টি উপায়

​বর্তমান যুগে ফেসবুক কেবল বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি আয়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্য থাকলে যে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করে সম্মানজনক আয় করতে পারেন। আজকের আর্টিকেলে আমরা ফেসবুক থেকে আয়ের শীর্ষ ৫টি উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

​১. ইন-স্ট্রিম অ্যাডস (In-Stream Ads)

​ফেসবুক থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো। ইউটিউবের মতো ফেসবুকেও আপনার আপলোড করা ভিডিওর মাঝে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়, যার বিনিময়ে আপনি টাকা পাবেন।

  • শর্ত: এর জন্য আপনার ফেসবুক পেজে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলোয়ার এবং গত ৬০ দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ 'ওয়াচ টাইম' থাকতে হয়। আপনার ভিডিও যত বেশি মানুষ দেখবে, আপনার আয় তত বাড়বে।

​২. ফেসবুক রিলস (Facebook Reels)

​বর্তমানে ফেসবুক 'রিলস' বা ছোট ভিডিওর ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। টিকটক বা ইউটিউব শর্টসের মতো এখানেও ছোট ভিডিও বানিয়ে 'রিলস প্লে বোনাস' বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। সৃজনশীল এবং ভাইরাল হওয়ার মতো ভিডিও বানাতে পারলে খুব দ্রুত এখান থেকে আয় শুরু করা যায়।

​৩. কন্টেন্ট মনিটাইজেশন ও স্টারস (Stars)

​ফেসবুকে আপনার ভক্ত বা অনুসারীরা যদি আপনার কন্টেন্ট পছন্দ করে, তবে তারা আপনাকে ডিজিটাল 'স্টার' পাঠাতে পারে। প্রতিটি স্টারের বিপরীতে ফেসবুক আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। সাধারণত লাইভ স্ট্রিমিং বা শিক্ষামূলক ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি খুব কার্যকর।

​৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

​আপনার যদি একটি বড় পেজ বা গ্রুপ থাকে, তবে আপনি বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের (যেমন: অ্যামাজন, দারাজ বা লোকাল ব্র্যান্ড) পণ্যের লিংক শেয়ার করতে পারেন। কেউ যদি আপনার দেওয়া লিংক থেকে পণ্য কেনে, তবে আপনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন। এটি বর্তমানে বিনিয়োগ ছাড়া আয়ের অন্যতম সেরা উপায়।

​৫. নিজের ব্যবসা বা অনলাইন শপ (Facebook Shop)

​আপনার যদি নিজস্ব কোনো পণ্য (যেমন: পোশাক, হস্তশিল্প বা খাবার) থাকে, তবে ফেসবুক পেজকে ব্যবহার করে আপনি সরাসরি গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করতে পারেন। ফেসবুক শপ ফিচার ব্যবহার করে পণ্য প্রদর্শন এবং বুস্টিংয়ের মাধ্যমে টার্গেটেড কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো এখন অনেক সহজ।

​সফল হওয়ার কিছু টিপস:

  • নিয়মিত কন্টেন্ট দিন: সপ্তাহে অন্তত ৩-৪টি মানসম্মত ভিডিও বা পোস্ট করুন।
  • কপিরাইট এড়িয়ে চলুন: অন্যের ভিডিও বা মিউজিক ব্যবহার করবেন না। সবসময় নিজের তৈরি কন্টেন্ট আপলোড করুন।
  • অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট: ফলোয়ারদের কমেন্টের উত্তর দিন এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।
হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: আলোচনায় 'হাসিনা ব্যবস্থা'। শব্দসাঁকো।

হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: আলোচনায় 'হাসিনা ব্যবস্থা'। শব্দসাঁকো।

 


হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়: আলোচনায় 'হাসিনা ব্যবস্থা'

স্টাফ রিপোর্টার: সেলিম রেজা| ঢাকা

​জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক মহলে এটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত ও ভাইরাল বিষয়।

​পোস্টে কী ছিল?

​সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটে 'হাসিনা ব্যবস্থা'র সবকিছুই প্রয়োজন, কেবল শেখ হাসিনা ছাড়া।" তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিতর্কিত মন্তব্যটি প্রকাশের পরপরই তা নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং পূর্ববর্তী সরকারের শাসন পদ্ধতির প্রতি এক ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

​রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

​হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্য নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকে একে বর্তমান সরকারের অধীনে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে এনসিপি (NCP)-র পক্ষ থেকে দক্ষিণবঙ্গে সংগঠনকে শক্তিশালী করার এই সময়ে এমন মন্তব্য বেশ গুরুত্ব বহন করছে।

​এনসিপি (NCP) ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

​জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সচেষ্ট। হাসনাত আবদুল্লাহর মতো তরুণ ও প্রভাবশালী নেতার এমন অবস্থান দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করছেন যে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন, তবে তার ধরন কেমন হবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

অনুগল্প: নীরব পুরুষ আমি  লেখক: হাফেজ মোহাম্মদ সোহেল হাসান।  শব্দসাঁকো।

অনুগল্প: নীরব পুরুষ আমি লেখক: হাফেজ মোহাম্মদ সোহেল হাসান। শব্দসাঁকো।


 অনুগল্প: নীরব পুরুষ আমি

লেখক: হাফেজ মোহাম্মদ সোহেল হাসান 


আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। বড় কোনো পরিচয় নেই, বড় কোনো স্বপ্নও না। শুধু ছোট্ট একটা ইচ্ছে ছিল—নিজের একটা সংসার গড়ব, যেখানে আমার মানুষগুলো ভালো থাকবে, শান্তিতে থাকবে।

হয়তো সেই ইচ্ছেটাই আমাকে প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখে।


আমার দিনটা শুরু হয় ভোরে। যখন চারপাশে এখনো নীরবতা, তখন আমি চুপচাপ উঠে পড়ি। আয়নায় নিজের দিকে তাকালে মাঝে মাঝে মনে হয়—এই মানুষটাকে আমি চিনিই না। চোখের নিচে ক্লান্তি, মুখে চাপা দুশ্চিন্তা, তবুও নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করি।

কারণ আমি জানি, আমি দুর্বল হলে আমার পরিবার ভেঙে পড়বে।


বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমি প্রতিদিন একটা কাজ করি—চুপচাপ আমার সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেই, আর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকি কিছুক্ষণ। ওরা তখন ঘুমিয়ে থাকে, জানেও না আমি কীভাবে তাদের জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে বের হই।

কিন্তু আমি কিছু বলি না। কারণ আমি শিখেছি, পুরুষদের ভালোবাসা মুখে বলতে হয় না—কাজেই প্রমাণ করতে হয়।


সারাদিন আমি বাইরে থাকি। কাজের চাপ, মানুষের কথা, জীবনের হিসাব—সবকিছু একসাথে মাথার ওপর এসে পড়ে। অনেক সময় খুব ক্লান্ত লাগে, মনে হয় একটু বসি, একটু বিশ্রাম নেই।

কিন্তু তখনই মনে পড়ে—আমার থামার সুযোগ নেই।

আমার থেমে যাওয়াটা মানে আমার পরিবারের কষ্ট শুরু হওয়া।


আমি নিজের ইচ্ছাগুলো ধীরে ধীরে মেরে ফেলেছি।

কোনো কিছু ভালো লাগলে কিনতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু ভাবি এই টাকা দিয়ে বাসার বাজার হবে, সন্তানের পড়াশোনার খরচ চলবে।

নিজের শখ, নিজের স্বপ্ন—সবকিছু এক পাশে সরিয়ে রেখে আমি শুধু একটা কথাই ভাবি,আমার পরিবার যেন ভালো থাকে।


বাড়ি ফিরি রাতে। শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে। কিন্তু বাসার দরজা খুলে যখন ভেতরে ঢুকি, তখন মুখে একটা হাসি রাখি।

কারণ আমি চাই না, আমার ক্লান্তি দেখে কেউ চিন্তা করুক।


আমার স্ত্রী কখনো কখনো বলে, তুমি তো আমাদের সময় দাও না। সারাদিন বাইরে থাকো।


কথাটা শুনে আমি চুপ হয়ে যাই।

ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে—

বলতে ইচ্ছে করে, এই বাইরে থাকাটাই তো তোমাদের জন্য।

কিন্তু আমি কিছুই বলি না।

কারণ আমি জানি, আমার ব্যাখ্যা হয়তো তার কাছে অজুহাত মনে হবে।


আমি বুঝি, আমি হয়তো ঠিকভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি না।

আমি “ভালোবাসি” কথাটা সহজে বলতে পারি না।

আমি শুধু চেষ্টা করি, যেন কোনো অভাব না থাকে।


কিন্তু মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়।

যখন দেখি, আমার এত চেষ্টা, এত ত্যাগ–কেউ যেন বুঝতেই চায় না।

আমি চুপচাপ থাকি বলে, সবাই ভাবে আমার কোনো অনুভূতি নেই।


একদিন রাতে আমার ছেলে আমাকে জিজ্ঞেস করল,

আব্বু, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?


আমি একটু হেসে বললাম,তোমার জন্যই তো সব করি।


সে হয়তো বুঝতে পারেনি আমার কথার গভীরতা।

কিন্তু আমি জানি, আমার প্রতিটা ঘাম, প্রতিটা কষ্ট—সবই ওর জন্য।


আমি কখনো কাউকে দোষ দেই না।

হয়তো আমারই ভুল,আমি আমার কষ্টগুলো কাউকে বুঝাতে পারি না।

আমি শুধু চুপচাপ দায়িত্ব পালন করে যাই।


রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন আমি একা বসে থাকি।

ভাবি,আমি কি সত্যিই অবহেলিত?

নাকি এটাই একজন পুরুষের জীবন?


হয়তো পুরুষ হওয়া মানেই,নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখা।

হয়তো পুরুষ হওয়া মানেই,চুপচাপ সব সহ্য করা।

হয়তো পুরুষ হওয়া মানেই,নিজে কষ্ট পেয়ে অন্যদের হাসি দেখানো।


আমি জানি না, আমার এই গল্প কেউ বুঝবে কিনা।

কিন্তু আমি এটুকু জানি,আমি খারাপ কিছু চাইনি।

আমি শুধু চেয়েছিলাম, আমার পরিবার ভালো থাকুক।


আজও আমি ভোরে উঠব, আবার কাজে যাব, আবার একইভাবে লড়াই করব।

কারণ আমি থামতে পারি না।

আমি হার মানতে পারি না।


আমি একজন পুরুষ,

আমার ভালোবাসা শব্দে না, দায়িত্বে লেখা।

আমার কষ্ট চোখে না, নীরবতায় লুকানো।

আর আমার গল্প—হয়তো কখনো পুরোটা কেউ বুঝবে না…।


~~~সমাপ্ত~~~

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ যুদ্ধ আপডেট।  শব্দসাঁকো।

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ যুদ্ধ আপডেট। শব্দসাঁকো।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আপডেট (২ এপ্রিল, ২০২৬)

​বর্তমানে এই সংঘাত ৩৪তম দিনে পদার্পণ করেছে। পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটময় মোড়ে অবস্থান করছে।

​১. ইসরায়েলে ইরানের ব্যাপক মিসাইল হামলা

​আজ সকালে ইরান থেকে ছোড়া ১০টি মিসাইল ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলো লক্ষ্য করে আরও ৩৫টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।

​২. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলটিমেটাম

​মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো প্রায় অর্জিত। তিনি পরবর্তী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি যুদ্ধবিরতিতে না আসে, তবে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

​৩. হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক সংকট

​ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ব্লক করে রেখেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি করেছে। চীন এই সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের "অবৈধ সামরিক অভিযানকে" দায়ী করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনসহ ৩৫টি দেশ এই নৌপথটি পুনরায় সচল করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।

​৪. ইরানের অনড় অবস্থান

​ইরানি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাগারি জানিয়েছেন, তাদের প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভস্থ এবং সুরক্ষিত, যা মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা আপাতত কোনো সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি নয়।

​৫. আরব অঞ্চলের প্রভাব

​সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) জানিয়েছে, তারা আজ বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ও মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত আরব দেশগুলোতেও বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সাদ্দাম সমাদ্দারের বউয়ের বিয়ে।  শব্দসাঁকো।

সাদ্দাম সমাদ্দারের বউয়ের বিয়ে। শব্দসাঁকো।

 

বউয়ের বিয়ে


বউয়ের বিয়ে

​আরিফ আর শায়লার বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয় মাস। পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে চমৎকার একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন শায়লা আরিফকে এক অদ্ভুত অনুরোধ করে বসল। সে জানাল, বিয়ের আগে সে একজনকে ভালোবাসত, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তাকে ভুলে এই বিয়ে করতে হয়েছে। এখন সে মানুষটি ফিরে এসেছে এবং শায়লার জন্য সব ছাড়তে রাজি।

​আরিফ প্রথমে স্তব্ধ হয়ে গেল। রাগে আর অপমানে তার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছিল, কিন্তু শায়লার চোখের জল দেখে সে নিজেকে সামলে নিল। সে বুঝল, জোর করে কাউকে পাশে রাখা যায়, কিন্তু তার মন পাওয়া যায় না। আরিফ এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজেই শায়লার সাথে সেই ছেলেটির বিয়ের ব্যবস্থা করবে।

​শহর থেকে দূরে এক নির্জন মন্দিরে বিয়ের আয়োজন হলো। আরিফ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব তদারকি করছিল। প্রতিবেশীরা ভাবছে হয়তো কোনো আত্মীয়র বিয়ে, কেউ ঘুণাক্ষরেও জানে না আজ আরিফ তার নিজের স্ত্রীকেই অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে।

​বিয়ের সব কাজ শেষ হওয়ার পর শায়লা যখন বিদায় নিতে যাবে, তখন সে আরিফের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল। আরিফ হাসিমুখে বলল, "সুখী হও।"

​গাড়িটা যখন চলতে শুরু করল, আরিফ একা সেই শূন্য মন্দিরের সিঁড়িতে বসে রইল। তার মনে পড়ল রবিঠাকুরের সেই উক্তি— "ছেড়ে দিলেই যদি সে ভালো থাকে, তবে ছেড়ে দেওয়াটাই প্রকৃত প্রেম।"

​সূর্য ডুবে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। আরিফ বুঝতে পারল, আজ সে শুধু তার বউকে হারায়নি, বরং এক অদ্ভুত নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাছে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছে।