গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

গল্প :অপরাজিতা  লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম ) শব্দসাঁকো।

গল্প :অপরাজিতা লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম ) শব্দসাঁকো।


 গল্প :অপরাজিতা

লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম )


সবিতাদের বাড়িটাকে বলা হতো 'বড় বাড়ি'। সাতজন চাচা, তাঁদের স্ত্রী-সন্তান এবং বৃদ্ধা দাদিকে নিয়ে এক বিশাল সংসার। সবিতার শৈশব কেটেছে এই অগণিত মানুষের ভিড়ে। সেখানে ব্যক্তিগত বলতে কিছু ছিল না; খাবার টেবিল থেকে শুরু করে শোবার ঘর—সবই ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।


সবিতার মনে পড়ে, তার মা আর কাকিমারা সূর্য ওঠার আগে রান্নাঘরে ঢুকতেন আর বের হতেন অনেক রাতে। তাঁদের জীবন ছিল ডাল-ভাতের নুন মাপার মতো হিসেবি। কিন্তু সবিতার চোখ ছিল জানালার বাইরের ওই দিগন্তজোড়া মাঠ আর বকুল গাছটার দিকে। সে স্বপ্ন দেখত বড় হয়ে সে এমন কিছু করবে যেখানে তার নিজের একটা নাম থাকবে, শুধু 'অমুকের বউ' বা 'তমুকের মা' হয়ে সে জীবন কাটাতে চায় না।



সবিতার বয়স যখন আঠারো, তখন তার বিয়ের কথা উঠল। বাড়ির বড়রা সিদ্ধান্ত নিলেন, পাশের গ্রামের এক শিক্ষিত কিন্তু রক্ষণশীল পরিবারে তার বিয়ে হবে। সবিতা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল, সে কলেজে পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু তার দাদি বলেছিলেন, "মেয়েদের অত বিদ্যা দিয়ে কী হবে? হাড়ি ঠেলতে জানলেই হলো।"


বিয়ের পর সবিতা দেখল, বাপের বাড়ির চেয়ে শ্বশুরবাড়ি আরও বেশি কঠোর। সেখানে মহিলারা উঁচু গলায় কথা বলতে পারে না, বিকেলের রোদে বারান্দায় বসতে পারে না। তার স্বামী সুনির্মল মানুষ হিসেবে মন্দ নয়, কিন্তু তার কাছে 'সংসারী স্ত্রী' মানেই হলো নিরবতা। সবিতার ভেতরে থাকা সৃজনশীল সত্তাটা তখন দম বন্ধ হয়ে মরার উপক্রম। সে লুকিয়ে ডায়েরি লিখত, আর মাঝেমধ্যে তার সবজি বাগানে গিয়ে মাটির সাথে কথা বলত।



সবিতার জীবনে পরিবর্তন এল এক বর্ষার দুপুরে। তার ছোট বোন সুমনা, যে যৌথ পরিবারের অবহেলায় চিকিৎসা না পেয়ে ভুগেছিল, সে চিঠিতে তার কষ্টের কথা লিখে পাঠাল। সবিতা উপলব্ধি করল, নারীরা যদি নিজেরা স্বাবলম্বী না হয়, তবে এই অবহেলা কোনোদিন শেষ হবে না।


সবিতা তার জমানো সামান্য কিছু টাকা আর বাপের বাড়ি থেকে আনা কিছু সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নামল। প্রথমে শাশুড়ি আর স্বামী খুব বাধা দিলেন। পাড়ার লোকেরা হাসাহাসি করত, "বড় ঘরের বউ এখন দর্জিগিরি করবে?" কিন্তু সবিতা ছিল স্থির। সে গ্রামের আরও কয়েকজন বিধবা আর অসহায় নারীকে সাথে নিল। বাড়ির পেছনের ভাঙা ঘরটাতে শুরু হলো তাদের সেলাই আর কুটির শিল্পের কাজ।



এক সময় বড় ধরনের সংকট এল। সুনির্মলের ব্যবসায় ধস নামল। পুরো পরিবার যখন দিশেহারা, তখন সবিতার জমানো টাকা আর তার ছোট কারখানাটিই ঢাল হয়ে দাঁড়াল। যে শাশুড়ি তাকে কাজ করতে বাধা দিতেন, তিনিই একদিন সবিতার হাতে বাড়ির চাবি তুলে দিলেন। সবিতা প্রমাণ করল যে, নারী শুধু ঘর সামলায় না, সংকটে ঘরের খুঁটিও হতে পারে।


সবিতার সেই ছোট সেলাইয়ের কাজ এখন 'বকুল সমবায়' নামে পরিচিত। গ্রামের প্রায় পঞ্চাশজন নারী সেখানে কাজ করে। সবিতা এখন আর কেবল ঘোমটা টানা বউ নয়, সে ওই এলাকার নারীদের প্রেরণার উৎস।



আজ সবিতার চুলে পাক ধরেছে। সে এখন তার নিজের তৈরি লাইব্রেরিতে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। তার জীবনে কোনো আক্ষেপ নেই। সে তার আত্মজীবনীতে শেষ লাইনে লিখল:


"যৌথ পরিবারের কোলাহলে আমি একদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম ঠিকই, কিন্তু নিজের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আমি এমন এক আকাশ তৈরি করেছি যেখানে ডানা মেলার অধিকার প্রতিটি নারীর আছে।"


                 ~সমাপ্ত ~

শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 


শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​গল্পের চরিত্রসমূহ:

​১. মোবারক সাহেব: বাড়ির কর্তা, যিনি বাথরুমের চাবি হারিয়ে চরম বিপাকে।

২. জরিণা বেগম: মোবারক সাহেবের স্ত্রী, অত্যন্ত কড়া মেজাজের এবং বর্তমানে চাবির একমাত্র মালিক।

৩. বল্টু: মোবারক সাহেবের ফাঁকিবাজ ছোট ছেলে, যে সবকিছুর মধ্যে সুযোগ খোঁজে।

৪. পিঙ্কি: বড় মেয়ে, যে সারাক্ষণ সেলফি আর মেকআপ নিয়ে ব্যস্ত।

৫. মকবুল চাচা: পাশের বাড়ির কৌতূহলী প্রতিবেশী, যিনি বিনা আমন্ত্রণে সবখানে নাক গলান।

৬. কদম আলী: বাড়ির কাজের লোক, যে একটু কানে কম শোনে এবং অদ্ভুত সব কাণ্ড করে।

​মূল গল্প:

​ভোর ছয়টা। মোবারক সাহেবের ঘুম ভাঙল এক অদ্ভুত অস্বস্তি নিয়ে। পেটের ভেতর যেন একঝাঁক ড্রামিবাদক তবলার রিদমে প্র্যাকটিস শুরু করেছে। মোবারক সাহেব দ্রুত বিছানা ছেড়ে বাথরুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। হ্যান্ডেল ঘোরালেন, কিন্তু দরজা খুলল না। ধাক্কা দিলেন, কাজ হলো না। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলেন—দরজায় একটা বড়সড় চায়না তালা ঝুলছে!

​মোবারক সাহেব চিৎকার করে উঠলেন, "ওগো শুনছ, বাথরুমে তালা কেন? চাবি কোথায়?"

​রান্নাঘর থেকে খুন্তি নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে এলেন জরিণা বেগম। শান্ত গলায় বললেন, "চাবি আমার আঁচলে। আজ থেকে এই বাড়িতে বাথরুম ব্যবহার করতে হলে পারমিশন লাগবে। নিয়ম জারি করেছি।"

​মোবারক সাহেব কপাল চাপড়ে বললেন, "নিয়ম মানে? আরে বাবা, এটা কি রেশন অফিস নাকি? আমার খুব ইমার্জেন্সি, চাবিটা দাও!"

​জরিণা বেগম সোফায় গিয়ে আয়েশ করে বসলেন। "কাল রাতে তুমি বলেছিলে আমার হাতের রান্না নাকি লবনাক্ত হয়েছে? আজ সেই লবণের শোধ নেব। আগে মাফ চাও, তারপর চাবি।"

​ঠিক এই সময়ে সেখানে হাজির হলো বল্টু। বল্টুর হাতে একটা খাতা আর কলম। সে ফিসফিস করে বাবার কানে বলল, "আব্বা, আম্মার সাথে ডিল করে লাভ নাই। আমার কাছে একটা অফার আছে। আমি জানি পাশের গলির পাবলিক টয়লেটের চাবি কার কাছে। মাত্র ৫০০ টাকা দিলেই ব্যবস্থা করে দেব।"

​মোবারক সাহেব খেঁকিয়ে উঠলেন, "হারামজাদা! বাপের বিপদে তুই ব্যবসা খুঁজছিস? যা এখান থেকে!"

​এদিকে বড় মেয়ে পিঙ্কি তার ঘর থেকে বেরিয়ে এল। পরনে সিল্কের গাউন, হাতে আইফোন। সে বাথরুমের তালার সামনে দাঁড়িয়ে একটা করুণ মুখ করে সেলফি তুলল। ক্যাপশন দিল— "Home Sweet Home, But Bathroom is Blocked! Feeling Constipated with 44 others."

​মোবারক সাহেব এবার সত্যি সত্যি কাঁদতে বাকি রাখলেন। পেটের ঢাক-ঢোল এখন রীতিমতো অর্কেস্ট্রার রূপ নিয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে কদম আলীকে ডাকলেন। "কদম! ওরে কদম! একটা হাতুড়ি নিয়ে আয় তো, এই তালাটা ভাঙতে হবে।"

​কদম আলী এক গাল হাসি নিয়ে এল। "কী বললেন খালুজান? আম পাড়তে হবে? এই সাত সকালে আম কই পাব?"

​"আরে গাধা! আম না, তালা! তালা ভাঙবি!" মোবারক সাহেব চিল চিৎকার দিলেন।

​কদম আলী মাথা চুলকে বলল, "ও আচ্ছা, থালা ধুতে হবে? ঠিক আছে, নিয়ে আসছি সাবান।" সে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

​এরই মধ্যে ড্রয়িংরুমের জানলা দিয়ে উঁকি দিলেন প্রতিবেশী মকবুল চাচা। মকবুল চাচার কাজই হলো মানুষের বিপদে জ্ঞান দেওয়া। তিনি বললেন, "মোবারক ভাই, ঘটনা কী? বাথরুমের সামনে এত জটলা কেন? আন্দোলন হচ্ছে নাকি?"

​মোবারক সাহেব দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, "মকবুল ভাই, জানলাটা বন্ধ করেন তো! পেটের ব্যথায় জীবন যায় আর আপনি আসছেন ইন্টারভিউ নিতে!"

​মকবুল চাচা দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি বললেন, "শুনেন ভাই, আমার এক মামাতো ভাই আছে তালা বিশেষজ্ঞ। তবে সে এখন জেলে। আপনি বরং এক কাজ করেন, লেবুর শরবত খান। পেটের চাপ কমবে।"

​মোবারক সাহেব রাগে ফেটে পড়লেন। "লেবুর শরবত খেলে চাপ কমবে না বাড়বে রে ভাই? আপনারা কি আমাকে মারতে চান?"

​জরিণা বেগম এবার ড্রয়িংরুম থেকে ঘোষণা করলেন, "চাবি পেতে হলে শর্ত নম্বর দুই—আগামী এক মাস বাজারের ব্যাগ আমি চেক করব। কোনো লুকানো বিড়ি বা জর্দা পাওয়া গেলে বাথরুম চিরস্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে!"

​মোবারক সাহেব নিরুপায় হয়ে সোফায় ধপাস করে বসে পড়লেন। পেটের ভেতর তখন যুদ্ধংদেহী অবস্থা। তিনি বল্টুকে ডাকলেন, "বল্টু বাবা, তোর অফারটা এখনো আছে? কত বললি যেন?"

​বল্টু দাত বের করে হাসল। "এখন তো ডিমান্ড বেড়ে গেছে আব্বা। এখন ১০০০ টাকা। সাথে এক প্যাকেট চকোলেট।"

​মোবারক সাহেব পকেট থেকে ১০০০ টাকার নোট বের করতে যাবেন, এমন সময় কদম আলী এক বালতি পানি নিয়ে হাজির হলো। সে ভাবল বাথরুমে পানি নেই বলে খালুজান চিৎকার করছেন। সে বিনা নোটিশে বাথরুমের দরজার ওপর ঢক ঢক করে পানি ঢালতে শুরু করল।

​"আরে থাম! থাম!" মোবারক সাহেব কদমকে বাধা দিতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেলেন মেঝেতে। পিঙ্কি সেই মুহূর্তটা ভিডিও করে ফেলল। "Breaking News: Dad's Epic Fall for Bathroom Key! #ViralVideo #FamilyDrama."

​ঠিক তখন বাড়ির ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল। জরিণা বেগম ফোন ধরলেন। ওপাশ থেকে মোবারক সাহেবের শাশুড়ি ফোন করেছেন। জরিণা বেগম ফোনে বলতে লাগলেন, "মা, তোমার জামাইকে আজ টাইট দিচ্ছি। সারা জীবন আমার ওপর হুকুম চালিয়েছে, আজ বুঝুক চাবি কার হাতে!"

​মোবারক সাহেব এবার হামাগুড়ি দিয়ে জরিণা বেগমের পা ধরতে গেলেন। "ওগো, তুমি যা বলবে তাই শুনব। বাজার আমিই করব, ঘর আমিই মুছব। এমনকি তোমার সিরিয়াল দেখার সময় রিমোটও ধরব না। দয়া করে চাবিটা দাও, আমার নাড়িভুঁড়ি সব এক হয়ে যাচ্ছে!"

​জরিণা বেগমের মন একটু গলল। তিনি আঁচল থেকে চাবিটা বের করে মোবারক সাহেবের দিকে ছুঁড়ে দিলেন। মোবারক সাহেব যেন অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন! তিনি লাফ দিয়ে চাবিটা ধরলেন এবং তালার ফুটোয় ঢোকালেন।

​কিন্তু কপাল খারাপ! চাবি ঘুরছে না। মোবারক সাহেব ঘামতে ঘামতে বললেন, "জরিণা, চাবি তো ঘোরে না! এটা কিসের চাবি?"

​জরিণা বেগম চাবির দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলেন। "ওমা! এটা তো আমার আলমারির চাবি! বাথরুমের চাবি তো মনে হয় ডাইনিং টেবিলের ওপর ফেলে এসেছি!"

​মোবারক সাহেবের মুখ তখন নীল হয়ে গেছে। তিনি ডাইনিং টেবিলের দিকে দৌড় দিলেন। কিন্তু সেখানে চাবি নেই। বল্টু তখন এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসছে। তার হাতে আসল চাবি। বল্টু বলল, "আব্বা, ১০০০ টাকা তো দিলে না। চাবিটা কিন্তু আমার কাছেই ছিল।"

​মোবারক সাহেব আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বল্টুর হাত থেকে চাবিটা একরকম ছিনিয়ে নিলেন। এবার তালা খুলল। মোবারক সাহেব ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। বাইরে থেকে শোনা গেল তার দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।

​বাইরে তখন মকবুল চাচা চেঁচিয়ে বলছেন, "মোবারক ভাই, সাকসেস? অভিনন্দন! মিষ্টি খাওয়ান!"

​পিঙ্কি লাইভে এসে বলছে, "Guys, finally the mission is accomplished! My dad is now officially in the bathroom. Stay tuned for more updates."

​আধা ঘণ্টা পর মোবারক সাহেব যখন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলেন, তার চেহারায় তখন পৃথিবীর সমস্ত প্রশান্তি। তিনি জরিণা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন, "জরিণা, শোনো। আজ থেকে এই বাড়িতে ডেমোক্রেসি চলবে। বাথরুমের চাবি কেউ নিজের কাছে রাখবে না। ওটা দরজাতেই থাকবে।"

​কদম আলী তখন এক প্লেট মিষ্টি নিয়ে ঘরে ঢুকল। "খালুজান, আপনি বাথরুম থেকে বের হয়েছেন খুশিতে পাশের বাসার ভাবি মিষ্টি পাঠিয়েছে।"

​মোবারক সাহেব একটা মিষ্টি মুখে দিয়ে বললেন, "এই শহরে একটা কথা প্রচলিত আছে—বউয়ের মন আর বাথরুমের চাবি, এই দুইটা যার হাতে থাকে, সেই আসল রাজা!"

​পুরো ড্রয়িংরুমে হাসির রোল পড়ে গেল। শুধু পিঙ্কি বিরস মুখে বলল, "ধুত্তোর! এত সুন্দর ড্রামাটা শেষ হয়ে গেল? আমার ফলোয়াররা তো আরও অ্যাকশন চাইছিল!"

​বল্টু পকেটে ১০০০ টাকা গুঁজে মিটিমিটি হাসতে হাসতে নিজের ঘরে চলে গেল। আর মোবারক সাহেব ঠিক করলেন, আজ বিকেলেই তিনি বাথরুমের দরজায় একটা অটোমেটিক লক লাগিয়ে নেবেন, যার কোনো চাবিই থাকবে না!

সমাপ্ত

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 

রূপলেখা প্রকাশন 

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​শহরের যান্ত্রিকতায় দমবন্ধ করা বিকেলগুলো যখন জানলার কার্নিশে এসে জমা হয়, তখন অপুর খুব মনে পড়ে নীলার কথা। নীলা—যে মেয়েটা চৈত্র মাসের তপ্ত দুপুরেও একরাশ শীতলতা নিয়ে আসত। অপুর কাছে প্রেম মানে কেবল হাত ধরা বা চোখে চোখ রাখা ছিল না, প্রেম ছিল এক বিশেষ ঘ্রাণ।

​নীলার শরীরের সেই ঘ্রাণটা অদ্ভুত। না, কোনো নামী ব্র্যান্ডের পারফিউম নয়, বরং বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর হালকা কামিনী ফুলের মিশ্রণ যেন সারাক্ষণ ওকে ঘিরে থাকত। অপু যখনই নীলার খুব কাছাকাছি বসত, এক দীর্ঘশ্বাস টেনে সেই ঘ্রাণটা নিজের ভেতরে পুষে রাখার চেষ্টা করত।

​একদিন গঙ্গার ঘাটে বসে অপু জিজ্ঞেস করেছিল, "আচ্ছা নীলা, তোমার গায়ের এই ঘ্রাণটা কিসের বলতো? ঠিক যেন শরতের ভোরের শিউলি ফুলের মতো।"

​নীলা মৃদু হেসে বলেছিল, "পাগল! শরীরের কি আবার আলাদা ঘ্রাণ থাকে? ওটা তোমার মনের ভুল।"

​অপু জেদ ধরে বলত, "না, এটা কোনো ভুল নয়। ভিড়ের মাঝে চোখ বন্ধ করে থাকলেও আমি ঠিক বুঝে যাব তুমি কোথায় আছো। এই ঘ্রাণটা আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন।"

​দিন যায়, সময় বদলায়। মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে নীলা আজ অন্য কারো ঘরের ঘরণী। অপুর ডায়েরির পাতায় এখন শুধু ধূসর স্মৃতি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজও যখন কোনো বৃষ্টির দিনে অপুর ঘরের জানলা দিয়ে ভেজা বাতাসের ঝাপটা আসে, তখন সে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তার মনে হয়, নীলা বুঝি পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।

​অপু এখন একা থাকে। সেই নীল শাড়িটা আজও আলমারির এক কোণে যত্ন করে রাখা, যেটা নীলা শেষবার দেখা করার দিন পরেছিল। মাঝে মাঝে মধ্যরাতে অপু সেই শাড়িটা বের করে মুখের কাছে ধরে। বহু বছর কেটে গেছে, তবুও কাপড়ের ভাঁজে যেন সেই অতি চেনা শরীরের ঘ্রাণটা এখনো লেগে আছে।

​আসলে মানুষের শরীর হারিয়ে যায়, মানুষ বদলে যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষের সেই মায়াভরা ঘ্রাণটা হৃদয়ের গভীর থেকে কখনো মুছে যায় না। স্মৃতিরা যখন কথা বলে ওঠে, তখন সেই ঘ্রাণটাই হয়ে ওঠে এক নিঃসঙ্গ প্রেমিকের পরম আশ্রয়।

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

গল্প: পুরুষের নীরব জীবনের কষ্ট  — নাজমিন আক্তার।  শব্দসাঁকো।

গল্প: পুরুষের নীরব জীবনের কষ্ট — নাজমিন আক্তার। শব্দসাঁকো।

লেখিকা: নাজমিন আক্তার। 

 গল্প: পুরুষের নীরব জীবনের কষ্ট

    — নাজমিন আক্তার 


 - পুরুষ মানুষের জীবন কেনো এমন হয়?

তাদের ও অনেক দুঃখ আছে,কষ্ট আছে; তারাও যে কান্না করতে পারে সেটা কেনো কেউ কখনো ভাবে না?


কথাগুলো রাতের খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো রিদুয়ান।


রিদুয়ান একজন প্রবাসী। তার বয়স ২৮ বছর। সে তার পরিবারের সুখের জন্য নিজের মাতৃভূমি কে ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছে! 


রিদুয়ান ভাবছে,পরিবারের ভালোর জন্য ছেলেরা কতো কিছুই না সহ্য করে,মানিয়ে নেয়,অল্প বয়সেও অনেকে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নেয়। কেউ কেউ নিজের দেশেই কাজ করে জীবন চালিয়ে নেয় আবার কেউ কেউ পরিবার,ঘর-সংসার সুন্দর মতো পরিচালনা করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়!


রিদুয়ানের অনেক স্বপ্ন ছিলো। সে খুব পড়াশোনা করবে,নিজের দেশে থেকেই কিছু একটা করবে,কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিলো না। পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন কে মাটি চাপা দিয়ে দূর প্রবাসে পাড়ি দিয়েছে।


হুট করে কথাগুলো মনে পড়ায়,রিদুয়ান একটা নীরব জায়গায় গিয়ে বসলো এবং কথাগুলো একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে একা একাই কথা বলছিলো!


রিদুয়ান যেখানে কাজ করে সেখানে তার কাজের সমস্যা অনেক। ঠিকঠাক মতো বেতন পায় না। তার মাথার উপর অনেক চার। সে নিজে কোনো রকম চললেও;তার পরিবারের কেউ যেনো সমস্যায় না পড়ে সেই দিকে সব সময় নজর রাখবে।


রিদুয়ান সবার চাওয়া-পাওয়ায় দিকে খেয়াল রাখে,সবার শখ পূরণ করায় সব সময় তৎপর থাকে। তবুও কারো মন রাখতে পারে না। সবার যেনো অভিযোগের শেষ নেই;এইটা যে শুধু রিদুয়ানের একার সমস্যা তা নয়,সকল প্রবাসী ছেলেদের একই অবস্থা! 


রিদুয়ান মাটিতে বসে মাথা টা নিচের দিকে করে মাটিতে তাকিয়ে বললো____


আমরা পরিবারের থেকে দূরে থাকি,প্রবাসে থাকি বলে কি আমরা আমাদের পরিবারের কাছে পর হয়ে গেলাম? আমাদের কে কি তাদের মনে পড়ে না? প্রয়োজন ছাড়া কেনো খোঁজ-খবর নেয় না? কিভাবে আছি,কি খাচ্ছি,বাসায় যাওয়ার কথাও তো কেউ বলে না!


রিদুয়ান ভেবে পায় না,দুনিয়াতে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও পুরুষের জীবন কেনো এমন ছন্নছাড়া হয়। পুরুষ মানুষ কেনো মেয়েদের মতো যখন তখন কান্না করে নিজের কষ্ট কে হালকা করতে পারে না?


রিদুয়ান নিজেই নিজেকে উত্তর দিলো_____


পৃথিবীর বুকে পুরুষ মানুষ শুধু একটা কঠিন বস্তুর মতো,আমাদের কান্না করতে যে মানায় না; তাহলে দুনিয়ার মানুষ বুঝে যাবে আমার অপদার্থ, আমরা নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ তাদের সামলাবো কি করে?


আসল পুরুষ কখনো কান্না করে না,করলেও তা লোকসমাজে তা বেমানান তাই দেখানো যাবে না,পুরুষ মানুষ ভিতরে ভিতরে ধ্বংস হলে ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেলেও বাহিরে তাকে সর্বদা লোহার মতো অটুট থাকতে হবে; তবেই সে পুরুষ হিসেবে গন্য ধরা হয় লোকসমাজে! 


বিয়ের আগে একটা পুরুষ মানুষের জীবন যেমন খুশি কেঁটে গেলোও বিয়ের পরেই শুরু হয় জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যেখানে সে পদে পদে ভুল প্রমাণীত হয়!


বিয়ের পরে দেখা যায় —


মা আর বউয়ের মধ্যে অনেক কিছু নিয়ে সমস্যা হয়,অনেক ঝামেলা হয়। অনেক সময় দেখা যায় মা আর বউ দু'জনের ঝগড়া ও হয়ে যায়। তারা কেউ কাউকে ছাড় দেয় না।


 সারাদিন সেই পুরুষ টা যদি কাজ থেকে বাসায় ফিরে ঘরে শান্তি না পেয়ে এমন অশান্তি পায় তাহলে কেমন লাগে? মা আর বউ দু'জনেই ঝামেলা করে,একজন তার স্বামী কে বলে বিচার করতে আরেকজন তার ছেলেকে বলে বিচার করতে!


একটা ছেলের কাছে তার মা এবং বউ দু'জনেই খুব প্রিয় হয়ে থাকে। বউ আর মা তারা একে উপরকে মাঝে মাঝে প্রতিযোগিতায় দাঁড় করায়,ছেলেটা কার বিচার করবে আর কাকে বেশি ভালোবাসে তা দেখার জন্য!


মা হলো একটা ছেলের আবেগ,ভালোবাসা তার জান্নাত। মায়ের জন্য কিন্তু একটা ছেলে বাবার সাথে ঝগড়া করতে পারে। মা'কে যে ছেলেরা কতোটা ভালোবাসে সেটা যদি তাদের মা'রা বুঝতো তাহলে কোনো মা ছেলে কষ্ট পাবে এমন কোনো কাজ করতে পারতো না। এমনি ছেলের ভালোর জন্য শান্তির জন্য ছেলের বউয়ের সাথেও কখনো ঝামেলা হয়তো করতো না!


স্ত্রী হলো স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী। দুনিয়ার প্রথম সম্পর্কই হলো স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক। তারা এক আত্মা দু'টো প্রাণ। বউ কে ছাড়া পুরুষ মানুষের জীবন অপূর্ণ হয়ে থাকে। বউকে একটা পুরুষ তার সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে ভালোবাসে। যদি বউয়েরা বুঝতো তাদের স্বামী'র কি কষ্ট হয় এইসব ঝামেলা দেখতে,অশান্তি'তে মরে যেতে ইচ্ছে হয়,তাহলে হয়তো বউ হয়ে সে স্বামী'র খুশির জন্য সব মেনে নিয়ে শান্তি বজায় রাখতো আর শাশুড়ী কেও মা মনে করতো!


মা আর বউ মিলেমিশে থাকলে একটা পুরুষের জীবনে যতোই দুঃখ,কষ্ট থাক সে ঠিকই তা পার করে জীবনে সুখী হতে পারবে কিন্তু ঘরে শান্তি না থাকলে বাহিরে কি করে সেই শান্তি মিলবে?


একটা পুরুষ'কে বাহিরে কাজ করতে হয়,কাজের ওইখানে কতো মানুষের কতো রকমের কথা সহ্য করে টাকা উপার্জন করতে হয়,এমনে এমনেই কেউ টাকা দিয়ে দেয় না। পুরুষ মানুষের কাঁধেই সংসারের ভার,সকলের চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করার ভার থাকে,ভাই-বোনদের বড় করতে হয়,পড়াশোনা করাতে হয়,বিয়ে শাদীর এমন অনেক কিছুই তার মাথায় সব সময় চিন্তা থাকে,মাঝে মাঝে এইসব চিন্তায় সে রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পর্যন্ত পারে না!


একটা পুরুষ মানুষের দায়িত্ব সব করার সে করেও,কিন্তু তারও তো মন চায় আমাকে কেউ একটু বুঝুক,আমাকেও সবাই ভালোবাসুক,কারণে-অকারণে সবাই আমার খোঁজ করুক। 


রিদুয়ানের আর কিছু ভাবতে ইচ্ছে করছে না, তার মাঝে মাঝেই মনে হয় আমি মরে যাই,হয়তো মরে গেলেই সব শান্তি মিলবে।


 আমি তো শুধুমাত্র সবার একটু ভালোবাসা চেয়েছিলাম,সবাই আমাকে বুঝবে সে আশা করেছিলাম,আমার বিপদে হাত না ছেড়ে আমার পাশে ভরসার হাত বাড়াবে ভেবেছিলাম; তা আর হলো কোথায়? আমি একাই সব সহ্য করছি করে যাচ্ছি,আমার রাতে ঘুম হয় না,ঠিকঠাক খাওয়া হয় না কতোদিন,মাথা ব্যাথা করে প্রচুর কাজের সমস্যা,পরিবারের দিক দিয়েও শান্তি নেই,নিজেকে খুব অসহায় লাগছে আল্লাহ্!


রিদুয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। তারপর বললো_____


আমি মরে গেলে আমার ঘর-সংসার,পরিবারের কি হবে?

তাদের দায়িত্ব কে নিবে?

তারা সমাজে কিভাবে বেঁচে থাকবে?


তাদের জন্য হলেও আমাকে বেঁচে থাকতে হবে,বাসায় ফিরে যাই সকালে কাজ করতে যেতে হবে,মেনে নিতে হবে,মানিয়েও নিতে হবে,কান্না আসলেও তা লোকসমাজে দেখানো যাবে না সব সহ্য করে নিতে হবে;কারণ, “এটাই আমাদের পুরুষ মানুষের জীবন!”


______সমাপ্ত______