বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

সাদ্দাম সমাদ্দারের বউয়ের বিয়ে।  শব্দসাঁকো।

সাদ্দাম সমাদ্দারের বউয়ের বিয়ে। শব্দসাঁকো।

 

বউয়ের বিয়ে


বউয়ের বিয়ে

​আরিফ আর শায়লার বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয় মাস। পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে চমৎকার একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন শায়লা আরিফকে এক অদ্ভুত অনুরোধ করে বসল। সে জানাল, বিয়ের আগে সে একজনকে ভালোবাসত, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তাকে ভুলে এই বিয়ে করতে হয়েছে। এখন সে মানুষটি ফিরে এসেছে এবং শায়লার জন্য সব ছাড়তে রাজি।

​আরিফ প্রথমে স্তব্ধ হয়ে গেল। রাগে আর অপমানে তার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছিল, কিন্তু শায়লার চোখের জল দেখে সে নিজেকে সামলে নিল। সে বুঝল, জোর করে কাউকে পাশে রাখা যায়, কিন্তু তার মন পাওয়া যায় না। আরিফ এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজেই শায়লার সাথে সেই ছেলেটির বিয়ের ব্যবস্থা করবে।

​শহর থেকে দূরে এক নির্জন মন্দিরে বিয়ের আয়োজন হলো। আরিফ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব তদারকি করছিল। প্রতিবেশীরা ভাবছে হয়তো কোনো আত্মীয়র বিয়ে, কেউ ঘুণাক্ষরেও জানে না আজ আরিফ তার নিজের স্ত্রীকেই অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে।

​বিয়ের সব কাজ শেষ হওয়ার পর শায়লা যখন বিদায় নিতে যাবে, তখন সে আরিফের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল। আরিফ হাসিমুখে বলল, "সুখী হও।"

​গাড়িটা যখন চলতে শুরু করল, আরিফ একা সেই শূন্য মন্দিরের সিঁড়িতে বসে রইল। তার মনে পড়ল রবিঠাকুরের সেই উক্তি— "ছেড়ে দিলেই যদি সে ভালো থাকে, তবে ছেড়ে দেওয়াটাই প্রকৃত প্রেম।"

​সূর্য ডুবে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। আরিফ বুঝতে পারল, আজ সে শুধু তার বউকে হারায়নি, বরং এক অদ্ভুত নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাছে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছে।

তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস। শব্দসাঁকো।

তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস। শব্দসাঁকো।

 


তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, জনজীবনে নাভিশ্বাস

(নিজস্ব প্রতিবেদক)

​দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে পাম্পগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে যানবাহন ও মানুষের কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে, যার ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বাস্তব চিত্র: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের প্রবেশপথে ‘তেল নেই’ অথবা ‘সরবরাহ বন্ধ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। যে অল্প কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মোটরসাইকেল আরোহী, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং গণপরিবহনের শ্রমিকরা ড্রাম ও বোতল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

​সাভার থেকে আসা ট্রাকচালক করিম মিয়া বলেন, “গত ১২ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। এখনো পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। মালিক তাগাদা দিচ্ছে, কিন্তু তেল ছাড়া গাড়ি চলবে কীভাবে? এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে জান শেষ।”

কৃষি ও পরিবহনে প্রভাব: সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি ও পরিবহন খাতে। ডিজেল সংকটের কারণে অনেক এলাকায় সেচ পাম্প চালানো বন্ধ হয়ে গেছে, যা বোরো ধান চাষের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। এদিকে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। সুযোগ বুঝে অনেক পরিবহন চালক দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরও লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংকটের কারণ: বিশ্লেষকরা এই সংকটের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় কারণকে দায়ী করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাকে প্রধান বৈশ্বিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ডলার সংকটের কারণে সময়মতো তেলের আমদানি এলসি (LC) খুলতে না পারা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “তেলের মজুদ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তবে সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে কম। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন করে কয়েকটি তেলের জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছে। আশা করা যায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

​ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার এবং অপ্রয়োজনে যানবাহন ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জনমনে প্রশ্ন একটাই—এই ‘সাময়িক’ সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া হবে?

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

গল্প :অপরাজিতা  লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম ) শব্দসাঁকো।

গল্প :অপরাজিতা লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম ) শব্দসাঁকো।


 গল্প :অপরাজিতা

লেখিকা :নীহারিকা নিরু (ছদ্মনাম )


সবিতাদের বাড়িটাকে বলা হতো 'বড় বাড়ি'। সাতজন চাচা, তাঁদের স্ত্রী-সন্তান এবং বৃদ্ধা দাদিকে নিয়ে এক বিশাল সংসার। সবিতার শৈশব কেটেছে এই অগণিত মানুষের ভিড়ে। সেখানে ব্যক্তিগত বলতে কিছু ছিল না; খাবার টেবিল থেকে শুরু করে শোবার ঘর—সবই ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।


সবিতার মনে পড়ে, তার মা আর কাকিমারা সূর্য ওঠার আগে রান্নাঘরে ঢুকতেন আর বের হতেন অনেক রাতে। তাঁদের জীবন ছিল ডাল-ভাতের নুন মাপার মতো হিসেবি। কিন্তু সবিতার চোখ ছিল জানালার বাইরের ওই দিগন্তজোড়া মাঠ আর বকুল গাছটার দিকে। সে স্বপ্ন দেখত বড় হয়ে সে এমন কিছু করবে যেখানে তার নিজের একটা নাম থাকবে, শুধু 'অমুকের বউ' বা 'তমুকের মা' হয়ে সে জীবন কাটাতে চায় না।



সবিতার বয়স যখন আঠারো, তখন তার বিয়ের কথা উঠল। বাড়ির বড়রা সিদ্ধান্ত নিলেন, পাশের গ্রামের এক শিক্ষিত কিন্তু রক্ষণশীল পরিবারে তার বিয়ে হবে। সবিতা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল, সে কলেজে পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু তার দাদি বলেছিলেন, "মেয়েদের অত বিদ্যা দিয়ে কী হবে? হাড়ি ঠেলতে জানলেই হলো।"


বিয়ের পর সবিতা দেখল, বাপের বাড়ির চেয়ে শ্বশুরবাড়ি আরও বেশি কঠোর। সেখানে মহিলারা উঁচু গলায় কথা বলতে পারে না, বিকেলের রোদে বারান্দায় বসতে পারে না। তার স্বামী সুনির্মল মানুষ হিসেবে মন্দ নয়, কিন্তু তার কাছে 'সংসারী স্ত্রী' মানেই হলো নিরবতা। সবিতার ভেতরে থাকা সৃজনশীল সত্তাটা তখন দম বন্ধ হয়ে মরার উপক্রম। সে লুকিয়ে ডায়েরি লিখত, আর মাঝেমধ্যে তার সবজি বাগানে গিয়ে মাটির সাথে কথা বলত।



সবিতার জীবনে পরিবর্তন এল এক বর্ষার দুপুরে। তার ছোট বোন সুমনা, যে যৌথ পরিবারের অবহেলায় চিকিৎসা না পেয়ে ভুগেছিল, সে চিঠিতে তার কষ্টের কথা লিখে পাঠাল। সবিতা উপলব্ধি করল, নারীরা যদি নিজেরা স্বাবলম্বী না হয়, তবে এই অবহেলা কোনোদিন শেষ হবে না।


সবিতা তার জমানো সামান্য কিছু টাকা আর বাপের বাড়ি থেকে আনা কিছু সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নামল। প্রথমে শাশুড়ি আর স্বামী খুব বাধা দিলেন। পাড়ার লোকেরা হাসাহাসি করত, "বড় ঘরের বউ এখন দর্জিগিরি করবে?" কিন্তু সবিতা ছিল স্থির। সে গ্রামের আরও কয়েকজন বিধবা আর অসহায় নারীকে সাথে নিল। বাড়ির পেছনের ভাঙা ঘরটাতে শুরু হলো তাদের সেলাই আর কুটির শিল্পের কাজ।



এক সময় বড় ধরনের সংকট এল। সুনির্মলের ব্যবসায় ধস নামল। পুরো পরিবার যখন দিশেহারা, তখন সবিতার জমানো টাকা আর তার ছোট কারখানাটিই ঢাল হয়ে দাঁড়াল। যে শাশুড়ি তাকে কাজ করতে বাধা দিতেন, তিনিই একদিন সবিতার হাতে বাড়ির চাবি তুলে দিলেন। সবিতা প্রমাণ করল যে, নারী শুধু ঘর সামলায় না, সংকটে ঘরের খুঁটিও হতে পারে।


সবিতার সেই ছোট সেলাইয়ের কাজ এখন 'বকুল সমবায়' নামে পরিচিত। গ্রামের প্রায় পঞ্চাশজন নারী সেখানে কাজ করে। সবিতা এখন আর কেবল ঘোমটা টানা বউ নয়, সে ওই এলাকার নারীদের প্রেরণার উৎস।



আজ সবিতার চুলে পাক ধরেছে। সে এখন তার নিজের তৈরি লাইব্রেরিতে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। তার জীবনে কোনো আক্ষেপ নেই। সে তার আত্মজীবনীতে শেষ লাইনে লিখল:


"যৌথ পরিবারের কোলাহলে আমি একদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম ঠিকই, কিন্তু নিজের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আমি এমন এক আকাশ তৈরি করেছি যেখানে ডানা মেলার অধিকার প্রতিটি নারীর আছে।"


                 ~সমাপ্ত ~

শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 


শিরোনাম: বউয়ের হাতে বাথরুমের চাবি

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​গল্পের চরিত্রসমূহ:

​১. মোবারক সাহেব: বাড়ির কর্তা, যিনি বাথরুমের চাবি হারিয়ে চরম বিপাকে।

২. জরিণা বেগম: মোবারক সাহেবের স্ত্রী, অত্যন্ত কড়া মেজাজের এবং বর্তমানে চাবির একমাত্র মালিক।

৩. বল্টু: মোবারক সাহেবের ফাঁকিবাজ ছোট ছেলে, যে সবকিছুর মধ্যে সুযোগ খোঁজে।

৪. পিঙ্কি: বড় মেয়ে, যে সারাক্ষণ সেলফি আর মেকআপ নিয়ে ব্যস্ত।

৫. মকবুল চাচা: পাশের বাড়ির কৌতূহলী প্রতিবেশী, যিনি বিনা আমন্ত্রণে সবখানে নাক গলান।

৬. কদম আলী: বাড়ির কাজের লোক, যে একটু কানে কম শোনে এবং অদ্ভুত সব কাণ্ড করে।

​মূল গল্প:

​ভোর ছয়টা। মোবারক সাহেবের ঘুম ভাঙল এক অদ্ভুত অস্বস্তি নিয়ে। পেটের ভেতর যেন একঝাঁক ড্রামিবাদক তবলার রিদমে প্র্যাকটিস শুরু করেছে। মোবারক সাহেব দ্রুত বিছানা ছেড়ে বাথরুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। হ্যান্ডেল ঘোরালেন, কিন্তু দরজা খুলল না। ধাক্কা দিলেন, কাজ হলো না। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলেন—দরজায় একটা বড়সড় চায়না তালা ঝুলছে!

​মোবারক সাহেব চিৎকার করে উঠলেন, "ওগো শুনছ, বাথরুমে তালা কেন? চাবি কোথায়?"

​রান্নাঘর থেকে খুন্তি নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে এলেন জরিণা বেগম। শান্ত গলায় বললেন, "চাবি আমার আঁচলে। আজ থেকে এই বাড়িতে বাথরুম ব্যবহার করতে হলে পারমিশন লাগবে। নিয়ম জারি করেছি।"

​মোবারক সাহেব কপাল চাপড়ে বললেন, "নিয়ম মানে? আরে বাবা, এটা কি রেশন অফিস নাকি? আমার খুব ইমার্জেন্সি, চাবিটা দাও!"

​জরিণা বেগম সোফায় গিয়ে আয়েশ করে বসলেন। "কাল রাতে তুমি বলেছিলে আমার হাতের রান্না নাকি লবনাক্ত হয়েছে? আজ সেই লবণের শোধ নেব। আগে মাফ চাও, তারপর চাবি।"

​ঠিক এই সময়ে সেখানে হাজির হলো বল্টু। বল্টুর হাতে একটা খাতা আর কলম। সে ফিসফিস করে বাবার কানে বলল, "আব্বা, আম্মার সাথে ডিল করে লাভ নাই। আমার কাছে একটা অফার আছে। আমি জানি পাশের গলির পাবলিক টয়লেটের চাবি কার কাছে। মাত্র ৫০০ টাকা দিলেই ব্যবস্থা করে দেব।"

​মোবারক সাহেব খেঁকিয়ে উঠলেন, "হারামজাদা! বাপের বিপদে তুই ব্যবসা খুঁজছিস? যা এখান থেকে!"

​এদিকে বড় মেয়ে পিঙ্কি তার ঘর থেকে বেরিয়ে এল। পরনে সিল্কের গাউন, হাতে আইফোন। সে বাথরুমের তালার সামনে দাঁড়িয়ে একটা করুণ মুখ করে সেলফি তুলল। ক্যাপশন দিল— "Home Sweet Home, But Bathroom is Blocked! Feeling Constipated with 44 others."

​মোবারক সাহেব এবার সত্যি সত্যি কাঁদতে বাকি রাখলেন। পেটের ঢাক-ঢোল এখন রীতিমতো অর্কেস্ট্রার রূপ নিয়েছে। তিনি মরিয়া হয়ে কদম আলীকে ডাকলেন। "কদম! ওরে কদম! একটা হাতুড়ি নিয়ে আয় তো, এই তালাটা ভাঙতে হবে।"

​কদম আলী এক গাল হাসি নিয়ে এল। "কী বললেন খালুজান? আম পাড়তে হবে? এই সাত সকালে আম কই পাব?"

​"আরে গাধা! আম না, তালা! তালা ভাঙবি!" মোবারক সাহেব চিল চিৎকার দিলেন।

​কদম আলী মাথা চুলকে বলল, "ও আচ্ছা, থালা ধুতে হবে? ঠিক আছে, নিয়ে আসছি সাবান।" সে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

​এরই মধ্যে ড্রয়িংরুমের জানলা দিয়ে উঁকি দিলেন প্রতিবেশী মকবুল চাচা। মকবুল চাচার কাজই হলো মানুষের বিপদে জ্ঞান দেওয়া। তিনি বললেন, "মোবারক ভাই, ঘটনা কী? বাথরুমের সামনে এত জটলা কেন? আন্দোলন হচ্ছে নাকি?"

​মোবারক সাহেব দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, "মকবুল ভাই, জানলাটা বন্ধ করেন তো! পেটের ব্যথায় জীবন যায় আর আপনি আসছেন ইন্টারভিউ নিতে!"

​মকবুল চাচা দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি বললেন, "শুনেন ভাই, আমার এক মামাতো ভাই আছে তালা বিশেষজ্ঞ। তবে সে এখন জেলে। আপনি বরং এক কাজ করেন, লেবুর শরবত খান। পেটের চাপ কমবে।"

​মোবারক সাহেব রাগে ফেটে পড়লেন। "লেবুর শরবত খেলে চাপ কমবে না বাড়বে রে ভাই? আপনারা কি আমাকে মারতে চান?"

​জরিণা বেগম এবার ড্রয়িংরুম থেকে ঘোষণা করলেন, "চাবি পেতে হলে শর্ত নম্বর দুই—আগামী এক মাস বাজারের ব্যাগ আমি চেক করব। কোনো লুকানো বিড়ি বা জর্দা পাওয়া গেলে বাথরুম চিরস্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে!"

​মোবারক সাহেব নিরুপায় হয়ে সোফায় ধপাস করে বসে পড়লেন। পেটের ভেতর তখন যুদ্ধংদেহী অবস্থা। তিনি বল্টুকে ডাকলেন, "বল্টু বাবা, তোর অফারটা এখনো আছে? কত বললি যেন?"

​বল্টু দাত বের করে হাসল। "এখন তো ডিমান্ড বেড়ে গেছে আব্বা। এখন ১০০০ টাকা। সাথে এক প্যাকেট চকোলেট।"

​মোবারক সাহেব পকেট থেকে ১০০০ টাকার নোট বের করতে যাবেন, এমন সময় কদম আলী এক বালতি পানি নিয়ে হাজির হলো। সে ভাবল বাথরুমে পানি নেই বলে খালুজান চিৎকার করছেন। সে বিনা নোটিশে বাথরুমের দরজার ওপর ঢক ঢক করে পানি ঢালতে শুরু করল।

​"আরে থাম! থাম!" মোবারক সাহেব কদমকে বাধা দিতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেলেন মেঝেতে। পিঙ্কি সেই মুহূর্তটা ভিডিও করে ফেলল। "Breaking News: Dad's Epic Fall for Bathroom Key! #ViralVideo #FamilyDrama."

​ঠিক তখন বাড়ির ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল। জরিণা বেগম ফোন ধরলেন। ওপাশ থেকে মোবারক সাহেবের শাশুড়ি ফোন করেছেন। জরিণা বেগম ফোনে বলতে লাগলেন, "মা, তোমার জামাইকে আজ টাইট দিচ্ছি। সারা জীবন আমার ওপর হুকুম চালিয়েছে, আজ বুঝুক চাবি কার হাতে!"

​মোবারক সাহেব এবার হামাগুড়ি দিয়ে জরিণা বেগমের পা ধরতে গেলেন। "ওগো, তুমি যা বলবে তাই শুনব। বাজার আমিই করব, ঘর আমিই মুছব। এমনকি তোমার সিরিয়াল দেখার সময় রিমোটও ধরব না। দয়া করে চাবিটা দাও, আমার নাড়িভুঁড়ি সব এক হয়ে যাচ্ছে!"

​জরিণা বেগমের মন একটু গলল। তিনি আঁচল থেকে চাবিটা বের করে মোবারক সাহেবের দিকে ছুঁড়ে দিলেন। মোবারক সাহেব যেন অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন! তিনি লাফ দিয়ে চাবিটা ধরলেন এবং তালার ফুটোয় ঢোকালেন।

​কিন্তু কপাল খারাপ! চাবি ঘুরছে না। মোবারক সাহেব ঘামতে ঘামতে বললেন, "জরিণা, চাবি তো ঘোরে না! এটা কিসের চাবি?"

​জরিণা বেগম চাবির দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলেন। "ওমা! এটা তো আমার আলমারির চাবি! বাথরুমের চাবি তো মনে হয় ডাইনিং টেবিলের ওপর ফেলে এসেছি!"

​মোবারক সাহেবের মুখ তখন নীল হয়ে গেছে। তিনি ডাইনিং টেবিলের দিকে দৌড় দিলেন। কিন্তু সেখানে চাবি নেই। বল্টু তখন এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসছে। তার হাতে আসল চাবি। বল্টু বলল, "আব্বা, ১০০০ টাকা তো দিলে না। চাবিটা কিন্তু আমার কাছেই ছিল।"

​মোবারক সাহেব আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বল্টুর হাত থেকে চাবিটা একরকম ছিনিয়ে নিলেন। এবার তালা খুলল। মোবারক সাহেব ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। বাইরে থেকে শোনা গেল তার দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।

​বাইরে তখন মকবুল চাচা চেঁচিয়ে বলছেন, "মোবারক ভাই, সাকসেস? অভিনন্দন! মিষ্টি খাওয়ান!"

​পিঙ্কি লাইভে এসে বলছে, "Guys, finally the mission is accomplished! My dad is now officially in the bathroom. Stay tuned for more updates."

​আধা ঘণ্টা পর মোবারক সাহেব যখন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলেন, তার চেহারায় তখন পৃথিবীর সমস্ত প্রশান্তি। তিনি জরিণা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন, "জরিণা, শোনো। আজ থেকে এই বাড়িতে ডেমোক্রেসি চলবে। বাথরুমের চাবি কেউ নিজের কাছে রাখবে না। ওটা দরজাতেই থাকবে।"

​কদম আলী তখন এক প্লেট মিষ্টি নিয়ে ঘরে ঢুকল। "খালুজান, আপনি বাথরুম থেকে বের হয়েছেন খুশিতে পাশের বাসার ভাবি মিষ্টি পাঠিয়েছে।"

​মোবারক সাহেব একটা মিষ্টি মুখে দিয়ে বললেন, "এই শহরে একটা কথা প্রচলিত আছে—বউয়ের মন আর বাথরুমের চাবি, এই দুইটা যার হাতে থাকে, সেই আসল রাজা!"

​পুরো ড্রয়িংরুমে হাসির রোল পড়ে গেল। শুধু পিঙ্কি বিরস মুখে বলল, "ধুত্তোর! এত সুন্দর ড্রামাটা শেষ হয়ে গেল? আমার ফলোয়াররা তো আরও অ্যাকশন চাইছিল!"

​বল্টু পকেটে ১০০০ টাকা গুঁজে মিটিমিটি হাসতে হাসতে নিজের ঘরে চলে গেল। আর মোবারক সাহেব ঠিক করলেন, আজ বিকেলেই তিনি বাথরুমের দরজায় একটা অটোমেটিক লক লাগিয়ে নেবেন, যার কোনো চাবিই থাকবে না!

সমাপ্ত

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ ​লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার। শব্দসাঁকো।

 

রূপলেখা প্রকাশন 

গল্পের শিরোনাম: প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ

লেখক: সাদ্দাম সমাদ্দার

​শহরের যান্ত্রিকতায় দমবন্ধ করা বিকেলগুলো যখন জানলার কার্নিশে এসে জমা হয়, তখন অপুর খুব মনে পড়ে নীলার কথা। নীলা—যে মেয়েটা চৈত্র মাসের তপ্ত দুপুরেও একরাশ শীতলতা নিয়ে আসত। অপুর কাছে প্রেম মানে কেবল হাত ধরা বা চোখে চোখ রাখা ছিল না, প্রেম ছিল এক বিশেষ ঘ্রাণ।

​নীলার শরীরের সেই ঘ্রাণটা অদ্ভুত। না, কোনো নামী ব্র্যান্ডের পারফিউম নয়, বরং বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর হালকা কামিনী ফুলের মিশ্রণ যেন সারাক্ষণ ওকে ঘিরে থাকত। অপু যখনই নীলার খুব কাছাকাছি বসত, এক দীর্ঘশ্বাস টেনে সেই ঘ্রাণটা নিজের ভেতরে পুষে রাখার চেষ্টা করত।

​একদিন গঙ্গার ঘাটে বসে অপু জিজ্ঞেস করেছিল, "আচ্ছা নীলা, তোমার গায়ের এই ঘ্রাণটা কিসের বলতো? ঠিক যেন শরতের ভোরের শিউলি ফুলের মতো।"

​নীলা মৃদু হেসে বলেছিল, "পাগল! শরীরের কি আবার আলাদা ঘ্রাণ থাকে? ওটা তোমার মনের ভুল।"

​অপু জেদ ধরে বলত, "না, এটা কোনো ভুল নয়। ভিড়ের মাঝে চোখ বন্ধ করে থাকলেও আমি ঠিক বুঝে যাব তুমি কোথায় আছো। এই ঘ্রাণটা আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন।"

​দিন যায়, সময় বদলায়। মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন আর ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে নীলা আজ অন্য কারো ঘরের ঘরণী। অপুর ডায়েরির পাতায় এখন শুধু ধূসর স্মৃতি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজও যখন কোনো বৃষ্টির দিনে অপুর ঘরের জানলা দিয়ে ভেজা বাতাসের ঝাপটা আসে, তখন সে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তার মনে হয়, নীলা বুঝি পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।

​অপু এখন একা থাকে। সেই নীল শাড়িটা আজও আলমারির এক কোণে যত্ন করে রাখা, যেটা নীলা শেষবার দেখা করার দিন পরেছিল। মাঝে মাঝে মধ্যরাতে অপু সেই শাড়িটা বের করে মুখের কাছে ধরে। বহু বছর কেটে গেছে, তবুও কাপড়ের ভাঁজে যেন সেই অতি চেনা শরীরের ঘ্রাণটা এখনো লেগে আছে।

​আসলে মানুষের শরীর হারিয়ে যায়, মানুষ বদলে যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষের সেই মায়াভরা ঘ্রাণটা হৃদয়ের গভীর থেকে কখনো মুছে যায় না। স্মৃতিরা যখন কথা বলে ওঠে, তখন সেই ঘ্রাণটাই হয়ে ওঠে এক নিঃসঙ্গ প্রেমিকের পরম আশ্রয়।

কবিতাঃ সন্ধ্যা   লেখিকাঃ রওনক জাহান।  শব্দসাঁকো।

কবিতাঃ সন্ধ্যা লেখিকাঃ রওনক জাহান। শব্দসাঁকো।


 কবিতাঃ সন্ধ্যা 

লেখিকাঃ রওনক জাহান 



নেমেছে সন্ধ্যা, মেরুন কমলা রঙের আভা

একপাশে লল টকটকে গোলকার সূর্যের গমন 

আপর পাশেই আবার এক সাদা চাঁদের আগমন 

মিলছে সাথে তারার আলাপ, বসেছে তাদের সভা।


কি অপরুপ, অমলিন অপলক তাকিয়ে থাকি

প্রকৃতির এক লীলাময় দৃশ্য, দেখতে লাগে বেশ

এই বুঝি থেমেছে আকাশ, একটুতেই তো শেষ 

সূর্য চাঁদ তারার মাঝে কিছু মেঘেরাও দেয় উঁকি। 


এ-তো এক আজব পরিবেশ এক উজ্জ্বল আলো

যাই যাই বলেও যেন থমকে গেছে সূয্যিমামা 

তার আলোতে বাধা আছে, তারাদের জ্বলতে মানা

এই আছে এক বিন্দু ছায়া, অল্পতেই হয় কালো।


প্রতিটা পলকে যেন এক নতুন দৃশ্য, নতুন কোনো ছবি

তাই হাতে কলম আমার, হয়ে গেলাম আজ কবি।


কম খরচে উন্নতমানের বই প্রকাশ, 

আপনার বিশ্বস্ত 

রূপলেখা প্রকাশন। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজাদীরা লড়ে   — তাহসিন তালুকদার

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজাদীরা লড়ে — তাহসিন তালুকদার

 


দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজাদীরা লড়ে 

— তাহসিন তালুকদার 


দুর্নীতির বিরুদ্ধে পারে না কেউ রুখতে 

আর যে একজন দাঁড়ায় রুখে,

অমানুষেরা সম্মেলিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে 

মেরে ফেলে মাটি দিয়ে দেয় তার মুখে। 


সোনার বাংলায় দুর্নীতি নামক 

শব্দটি হয়ে গেছে প্রচলিত, 

দিনে-রাতে যে কোন পরিস্থিতিতে 

দুর্নীতি যে চলছে প্রতিনিয়ত। 


এক জালিমকে বিদায় দিয়ে 

মনে করো না, হয়ে গেছে সবকিছু,

আরেক জালিম সেজে এসেছে 

পূর্বের জালিম থেকেও ভয়ঙ্কর কিছু। 


সবাইকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে 

দাঁড়াতে হবে একসাথে, 

শত জালিমকে অতিক্রম করেই

বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে সোনার বাংলাতে।


কম খরচে উন্নতমানের বই প্রকাশ করার জন্য 

যোগাযোগ করেন আপনার বিশ্বস্ত রূপলেখা প্রকাশন এর সাথে।